পেট ভালো রাখতে দই নাকি ঘোল?

0
পেট ভালো রাখতে দই নাকি ঘোল?

পেটের সুস্থতায় দই দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত একটি উপকারী খাবার। বিশেষজ্ঞদের মতে, দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হজমের সমস্যা হলে অনেক চিকিৎসকই দই বা দইয়ের ঘোল খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে দই আর ঘোলের মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী?

টক দই পেটের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। সকালের নাশতায় বা দুপুরের খাবারের পর এক বাটি দই হজমে সহায়তা করে। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে হজমশক্তি উন্নত করে।

এ ছাড়া দই ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ। হাড় ও দাঁত মজবুত করা, পেশি গঠন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দই কার্যকর। যাঁদের প্রোটিনের চাহিদা বেশি, দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেছেন বা সংক্রমণ থেকে সেরে উঠছেন, তাঁদের জন্য দই উপকারী। গ্যাস-অম্বলের সমস্যা না থাকলে ওজন কমাতেও দই সহায়ক হতে পারে।

দই ফেটিয়ে তার সঙ্গে পুদিনা, জিরা, আদা ও সামান্য মশলা মিশিয়ে তৈরি করা ঘোলও পেটের জন্য উপকারী। পুষ্টিগুণের দিক থেকে ঘোল তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য। যাঁরা অম্বল, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদহজমে ভোগেন, তাঁদের জন্য দইয়ের চেয়ে ঘোল বেশি উপকারী।

ঘোল শরীর আর্দ্র রাখে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে দইয়ের তুলনায় ক্যালোরি ও ফ্যাট কম, তাই স্থূলতায় ভোগা ব্যক্তিরা নিয়মিত ঘোল খেলে উপকার পেতে পারেন। খাবারে অরুচি থাকলে আদা, বিট লবণ ও জিরাগুঁড়া মিশিয়ে ঘোল খেলে রুচি বাড়ে।

কার জন্য কোনটি?

ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স থাকলে বা দুধজাত খাবারে অ্যালার্জি থাকলে দইয়ের তুলনায় ঘোল সহনীয় হতে পারে। দীর্ঘদিন হাঁপানি, সিওপিডি বা শ্বাসজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দই শ্লেষ্মা বাড়াতে পারে, এক্ষেত্রে ঘোল তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here