অনেকেই পানি কম পান করার অভ্যাসে অভ্যস্ত। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত পানি না পেলে শুধু শারীরিক দুর্বলতা নয়, বরং ঘন ঘন মাথাব্যথার কারণও হতে পারে।
মানবদেহে মস্তিষ্কের প্রায় ৭৫ শতাংশ পানি থাকে। পর্যাপ্ত পানি না পেলে মস্তিষ্কের টিস্যু সাময়িকভাবে সংকুচিত হতে পারে। এই সংকোচনের ফলে স্নায়ু ও তার আশেপাশের অঞ্চলে চাপ তৈরি হয়, যার ফলে মাথাব্যথা অনুভূত হয়। যেহেতু এটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া, অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না যে কম পানি পান করাই সমস্যার মূল কারণ।
পর্যাপ্ত হাইড্রেশন রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে। ডিহাইড্রেশনের কারণে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে, যার ফলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে।
এছাড়া পানি ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক। সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের ভারসাম্যহীনতা মাথাব্যথা, দুর্বলতা এবং স্মৃতিভ্রমের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রচুর ঘামেন, কঠোর পরিশ্রম করেন বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান করেন, তাদের জন্য পানি কম পানের সমস্যা আরও প্রকট।
পানি শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। কম হাইড্রেশনের ফলে কিডনির কার্যক্রম ধীর হয়ে যায় এবং বিষাক্ত পদার্থ শরীরে জমা হতে পারে, যা মাথাব্যথা ও ক্লান্তি বাড়ায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা শরীরের হাইড্রেশন, ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখে। তাই মাথাব্যথা কমানোর জন্য নিয়মিত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি।

