কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম সাধারণত শুকনো ও ধীর পিচের জন্য পরিচিত, যেখানে বল কিছুটা ঘুরে যায় এবং ভালো গ্রিপ পায়। এই পিচে রান তাড়া করা ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও, স্পিনারদের সুবিধা বেশি থাকে।
রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচ ভারত বনাম পাকিস্তান। রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই মহারণকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে। ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন একমাত্র এই ম্যাচে। দুই দলই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কায় তাদের বিশ্বকাপের সব ম্যাচ খেলে স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে, অন্যদিকে ভারত শুক্রবার কলম্বো পৌঁছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে।
পরিসংখ্যানও ভারতের প্রাধান্যকে তুলে ধরে। সাম্প্রতিক অতীতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পাকিস্তান শেষ পাঁচ ম্যাচে ভারতকে হারাতে পারেনি। বিশ্বকাপ মঞ্চে ব্যবধান আরও বড়—ভারতের পক্ষে ১৫-১। অর্থাৎ, বিশ্বকাপ ইতিহাসে পাকিস্তানের একমাত্র জয় এসেছে ২০২১ সালে, সেই ম্যাচ ছাড়া সব ক্ষেত্রে ভারতই আধিপত্য দেখিয়েছে।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম সাধারণত শুকনো ও ধীর পিচ হিসেবে পরিচিত। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০ উইকেটের মধ্যে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। রবিবার ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচও একই পিচে অনুষ্ঠিত হবে। তবে অজানিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবোয়ের জয় দেখিয়েছে যে কখনো কখনো পেসাররাও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারে ব্লেসিং মুজারাবানি ৪/১৭ এবং ব্র্যাড ইভান্স ৩/১৭ উইকেট ভাগাভাগি করেছিলেন।
এই পিচে এখনও ২০০+ স্কোর দেখা যায়নি। প্রথম ইনিংসের গড় স্কোর ১৪০-১৭০ এর মধ্যে থাকে। বড় বাউন্ডারি ও বলের গ্রিপের কারণে ২০০ রানের বেশি সংগ্রহ করা কঠিন। নতুন বল পেসারদের কিছু সুবিধা দিতে পারে, তবে ম্যাচে স্পিনারদের প্রাধান্য থাকার সম্ভাবনা বেশি।
দুই দলের স্পিন আক্রমণ
ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে ব্যবহৃত পিচটি জিম্বাবেুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের পিচের মতো। দুই দলেই যোগ্য স্পিনার রয়েছে। ভারতের ভরসা বরুণ চক্রবর্তী কুলদীপ যাদব এবং অক্ষর প্যাটেল, পাকিস্তানের পক্ষে আছে উসমান তারিক, আবরার আহমেদ এবং শাদাব খান। বিশেষ করে উসমান তারিকের অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।
অতীতে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই ছিল ভারতীয় ব্যাটার বনাম পাকিস্তানি পেসারদের লড়াই। তবে এবার চিত্রটা ভিন্ন। ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ বনাম পাকিস্তানের শক্তিশালী স্পিন আক্রমণ। পাকিস্তানের দলে রয়েছে দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনার এবং তিনজন স্পিন অলরাউন্ডার।

