দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান ক্রিকেটে কোনো সাফল্য নেই। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতার পর দলটি কিছুই জেতেনি। সর্বশেষ তিনটি আইসিসি ইভেন্টে ফিরেছে প্রথম রাউন্ড থেকে। এমন ধারাবাহিক বাজে পারফরমেন্সের কারণে গত মাসে পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা করেছিলেন ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে পাকিস্তানের হারের পর গাভাস্কার বলেছিলেন, এই পাকিস্তান ভারতের ‘বি’ দলকেও হারাতে পারবে না। গাভাস্কারের সেই কথার জবাব দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসার ও পাকিস্তানের টেস্ট দলের সাবেক কোচ জেসন গিলেস্পি। তার কাছে গাভাস্কারের এ কথাকে ফালতু মনে হয়েছে। গত বছর প্রায় ৬ মাস পাকিস্তানের দলের দায়িত্বে থাকা এই কোচ দেশটিতে প্রতিভা দেখেছেন।
গাভাস্কারের কথাকে উড়িয়ে দিয়ে পাকপ্যাশন পডকাস্টকে গিলেস্পি বলেছেন, ‘আমি এই কথাবার্তা বিশ্বাস করি না। গাভাস্কারের কিছু মন্তব্য দেখেছি, যেখানে তিনি বলেছেন যে ভারতের বি দল বা সি দলও পাকিস্তানের শীর্ষ দলকে হারাতে পারে। এটা ফালতু কথা। একদমই ফালতু।’
পাকিস্তান দল কীভাবে সাফল্য পেতে পারে, সে কথাও বলেছেন গিলেস্পি, ‘যদি পাকিস্তান সঠিক খেলোয়াড়দের নির্বাচন করে, তাদের ওপর আস্থা রাখে এবং নিজেদের দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ দেয়, তাহলে তারা যেকোনো দলকে হারাতে সক্ষম। এতে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’
গিলেস্পি গত বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব নেন। এরপর পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে ডিসেম্বরেই দায়িত্ব ছাড়েন। সাদা বলে পাকিস্তানের কোচের দায়িত্বে থাকা গ্যারি কারস্টেন দায়িত্ব ছাড়েন গত বছর অক্টোবরে। এসব অস্থিরতার প্রসঙ্গও টেনেছেন গিলেস্পি।
ক্রিকেটে পরিবর্তন চাইলে সবাইকে সময় দিতে হবে বলে মনে করেন এই অস্ট্রেলিয়ান, ‘প্রশ্নটা হলো সেরা প্রতিভাকে বাছাই করা এবং তাদের পাশে থাকার ধৈর্য ধরার। আমার মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটে অনেক অস্থিরতা আছে। পিসিবি যদি সত্যিই পরিবর্তন চায় এবং ভালো পারফর্ম করতে চায়, তাহলে তাদের সঠিক মানুষদের দায়িত্ব দিতে হবে, সঠিক খেলোয়াড়দের দলে নিতে হবে, সঠিক নির্বাচক প্যানেল গঠন করতে হবে এবং তাদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। তাদের সময় দিতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে যেন তারা তাদের কাজটা ঠিকমতো করতে পারে।’
গিলেস্পি যোগ করেন, ‘কোচদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদি কোনো কোচকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তাকে সত্যিকারের কিছু গড়ে তোলার সুযোগ দিতে হবে। না হলে ফলাফল আগের মতোই থেকে যাবে।’