পরিষদে আসেন না চেয়ারম্যান, ভোগান্তিতে সনদ প্রত্যাশীরা

0
পরিষদে আসেন না চেয়ারম্যান, ভোগান্তিতে সনদ প্রত্যাশীরা

গত এক মাস ধরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন করতে ঘুরছেন উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেন। প্রতিদিনই এসে দেখেন চেয়ারম্যানের দরজায় ঝুলছে বিশাল এক তালা। কবে আসবেন চেয়ারম্যান তার কোনো উত্তরই পাচ্ছেন না তিনি।

চেয়ারম্যানের একটি স্বাক্ষর পেতে মকবুল হোসেনের মতো তালুককানুপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মথুরাপুর গ্রামের গৃহিণী পারভীন বেগম, ৩নং ওয়ার্ডের সিংহডাংগা গ্রামের বৃদ্ধ আলম মিয়া তাদের কাজের জন্য পরিষদে ঘুরছেন দিনের পর দিন।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল। ফলে চেয়ারম্যানের একটি স্বাক্ষরের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, তালুককানুপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের তেলিয়া, দামোদরপুর, ফুলবাড়ি, ছোট নারায়নপুর, ছোট নারিচাগাড়ী, বেড়া মালঞ্চ, চিয়ারগ্রাম, দেবপুর, সিংহডাংগা, উত্তরপাড়া, চক শিবপুর, রাঘবপুর, কাপাসিয়া, তালুককানুপুর, নোদাপুর, সমসপাড়া, চন্ডিপুর, তাজপুর, সুন্দইল, উত্তর ছয়ঘড়িয়া, কমল নারায়নপুর, বড় নারায়নপুর, মথুরাপুর গ্রাম থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ তাদের জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদ, স্থায়ী বাসিন্দা সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন প্রত্যয়নে একটা স্বাক্ষর পেতে দিনের পর দিন ঘুরছে পরিষদের বারান্দায়। প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের ফলে সাধারণ জনগণের অতিরিক্ত টাকা ও সময় অপচয় হচ্ছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ইউনিয়নবাসী। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। চেয়ারম্যান শূন্য পরিষদে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে ইউপি সচিবের মাথায়।

এ ব্যাপারে তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাসুদ রহমান বলেন, চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে গ্রাম আদালত, মাসিক মিটিংসহ পরিষদের অন্যান্য কার্যক্রম। অনেকেই এসে ফিরে যাচ্ছেন। এতে অনেকটা ভোগান্তি চরমে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের একজন ওয়ার্ড সদস্য জানান, চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানাবিধ অপকর্ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে গ্রামবাসী মানববন্ধনও করেছে যা গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। ৫ আগষ্টের পর থেকে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না। এমনকি তার ফোন পর্যন্ত বন্ধ। তাই সাধারণ মানুষের তীব্র ভোগান্তি হচ্ছে। অতিদ্রুত প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

পরিষদে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়টা জানতে পেরেছি। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here