পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন রেজিস্ট্রেশন শুরু

0
পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন রেজিস্ট্রেশন শুরু

দেশের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে টোল প্লাজায় থামা ছাড়াই গাড়ি পারাপারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি যানজট কমাতে সহায়ক হবে।

বুধবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদারের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পদ্মা সেতুতে আধুনিক ইটিসি সিস্টেম চালুর লক্ষ্যে এ রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও সহজ করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে সেতু পারাপারকারী যানবাহনের মধ্যে ইটিসি রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। গত ৩ এপ্রিল থেকে ফরিদপুরের গোল্ডেনলাইন পরিবহনের বাস ডিপোতে পোর্টেবল আরএফআইডি স্ক্যানারের মাধ্যমে ফিল্ড পর্যায়ে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে।

এছাড়া মাওয়া প্রান্তে নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন বুথে সপ্তাহের যেকোনো দিন রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে মাদারীপুর টার্মিনাল, ঢাকার রাজারবাগ, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও ফিল্ড পর্যায়ে ইটিসি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করা হবে। ইতোমধ্যে ৫৪৬টি যানবাহন ইটিসি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে।

বর্তমানে ট্যাপ, বিকাশ, নগদ, উপায়সহ বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে। ইটিসি ব্যবহারকারী যানবাহনগুলো টোল প্লাজায় না থেমেই নির্ধারিত গতিসীমার মধ্যে থেকে পারাপারের সুবিধা পাচ্ছে।

ইটিসি ব্যবহারের ফলে যাত্রীরা নানামুখী সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে, টোল প্লাজায় থামা ছাড়াই সরাসরি পারাপার, ফলে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার প্রয়োজন হবে না; স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টোল আদায়ের কারণে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং যানজট কমবে; নগদ অর্থ বহনের ঝামেলা ছাড়াই ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন করা যাবে; এবং প্রতিটি লেনদেনের পর গ্রাহকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে টোল আদায়ের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা জনসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইটিসি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পদ্মা সেতুতে চলাচলকারী যানবাহন দ্রুততম সময়ে পারাপার হতে পারবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তের জেলাগুলোতে নির্ধারিত বুথে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল যানবাহনের মালিক ও চালকদের দ্রুত ইটিসি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে আধুনিক এই সেবা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here