নেটফ্লিক্সকে হটিয়ে ওয়ার্নার ব্রোস যাচ্ছে প্যারামাউন্টের দখলে

0
নেটফ্লিক্সকে হটিয়ে ওয়ার্নার ব্রোস যাচ্ছে প্যারামাউন্টের দখলে

বিশ্ব বিনোদন মানচিত্রে এক অভাবনীয় রদবদল ঘটতে চলেছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন আর দর কষাকষির পর অবশেষে ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারি (ডব্লিউবিডি) দখল করতে চলেছে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেও এই দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে ছিল স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স। 

গত ডিসেম্বরে একটি চুক্তিতে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে চড়া দাম এবং আইনি জটিলতার আশঙ্কায় লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছে নেটফ্লিক্স, যা পুরো হলিউডকে চমকে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নেটফ্লিক্স আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, তারা প্যারামাউন্টের দেওয়া প্রস্তাবের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে ওয়ার্নার ব্রোস কিনতে আগ্রহী নয়। 

নেটফ্লিক্সের সহ-সিইও টেড সারানডোস এবং গ্রেগ পিটারস এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ব্যবসায়িক দিক থেকে ওয়ার্নার ব্রোস একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হলেও বর্তমানে যে চড়া মূল্য নির্ধারিত হয়েছে, তা তাদের কোম্পানির জন্য আর্থিকভাবে লাভজনক হবে না। তারা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, নেটফ্লিক্স নিজস্ব কনটেন্ট এবং গ্রাহকসেবার মাধ্যমে স্বাভাবিক নিয়মেই বড় হচ্ছে, তাই যেকোনো মূল্যে এই চুক্তি করার প্রয়োজনীয়তা তারা দেখছেন না।

প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সের এই জয় বিনোদন দুনিয়ায় এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল। এই চুক্তির ফলে এইচবিও, ওয়ার্নার ব্রোস স্টুডিওর পাশাপাশি সিএনএন, টিএনটি এবং ডিসকভারি চ্যানেলের মতো বিশাল নেটওয়ার্ক এখন প্যারামাউন্টের অধীনে চলে আসবে। 

এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, ওয়ার্নার ব্রোস তাদের কেবল চ্যানেলগুলোকে আলাদা করে দেবে, কিন্তু প্যারামাউন্টের মালিকানায় আসার ফলে সেই সম্ভাবনা আপাতত নেই বললেই চলে।

তবে এই বিশাল একীভূতকরণ নিয়ে হলিউডের অন্দরে শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। দুটি বড় কোম্পানি এক হওয়ার ফলে প্রশাসনিক ও নির্মাণ বিভাগে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এই চুক্তির পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও উঠেছে। প্যারামাউন্টের অন্যতম বিনিয়োগকারী ল্যারি এলিসনের সঙ্গে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সরব হয়েছেন অনেক রাজনীতিক। তাদের মতে, এমন একচেটিয়া আধিপত্য বিনোদন বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।

সব বাধা পেরিয়ে এই চুক্তি সম্পন্ন হলে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় করপোরেট পটপরিবর্তন। একদিকে নেটফ্লিক্স যেখানে নিজেদের মূল ব্যবসায়িক মডেলে ফিরে যাওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স ঐতিহ্যবাহী স্টুডিও এবং কেবল নেটওয়ার্কের এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। 

এখন দেখার বিষয়, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে এই দুই মহারথী কবে নাগাদ এক ছাদের নিচে কাজ শুরু করে।

সূত্র: ভ্যারাইটি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here