নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন: হুমকির জনপদ ও ফসলি জমি

0
নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন: হুমকির জনপদ ও ফসলি জমি

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার করতোয়া–বাঙালি–আলাই নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একাধিক স্থানে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিনে–দুপুরে নদীর তলদেশ কেটে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে মাসিক চুক্তিতে টাকা দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে বালু ব্যবসায়ীরা। যদিও উপজেলা প্রশাসন বলছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাঘাটা উপজেলার মসজিদের ঘাট, ত্রিমোহনী, কচুয়া ও হিন্দুপাড়া এলাকাসহ নদীর অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধভাবে তোলা বালু ট্রাক্টর (কাকরা) গাড়িতে করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গ্রামীণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর বুক চিরে বালু তোলা হলেও কার্যকর কোনো নজরদারি বা প্রশাসনিক তৎপরতার দৃশ্যমান উপস্থিতি নেই।

এলাকাবাসী জানান, অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। হুমকির মুখে পড়েছে নদীপাড়ের ফসলি জমি, বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে কোনো বড় ধরনের অভিযান দেখা যায়নি। ফলে অবৈধ বালু উত্তোলন যেন এক ধরনের ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত’ কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।

‎স্থানীয় শরিফ মিয়া নামের এক কলেজ ছাত্র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে বালু তোলা ও বিক্রির কার্যক্রম চললেও কোনো দৃশ্যমান অভিযান হয়নি। এদিকে বালুবাহী ভারী ট্রাকের দাপটে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বেড়েছে ধুলাবালির যন্ত্রণা ও জনভোগান্তি পড়েছি আমরা।

‎নদী পাড়ের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সরকারিভাবে নদী খনন করার পরে আমরা মনে করছিলাম আমাদের ঘর বাড়ি রক্ষা হলো। এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে গভীর গর্তের কারণে এই নদীই আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনছে।

‎কচুয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী বলেন, দিন-রাত ড্রেজারের শব্দ আর ট্রাক চলাচলের কারণে এখানে বসবাস করা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। অনেক দিন ধরে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত অবৈধ ড্রেজার সরানো, বালু উত্তোলন বন্ধ করা এবং যারা জড়িত তাদের শাস্তির দাবি করেন তিনি।

সাঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ খন্দকার অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রশাসন মনোনীত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মাসিক টাকা নেওয়ায় এসব অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবীরকে অবগত করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। আইন অমান্য করে যারা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দোষীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here