দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বিনতি (৮)। এবার তার তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। সবশেষ বার্ষিক পরীক্ষায় ভালো ফলও করেছিল সে।
রবিবার রাতে আয়েশার বাবা বেলাল হোসেন বলেন,‘আমার মেয়েটা আর নেই। শিক্ষক যখন বললেন সে দ্বিতীয় হয়েছে, তখন বুকফাটা কান্না ছাড়া আমার আর কিছুই ছিল না। এই ফলাফল দিয়ে এখন আমি কী করবো?’
বেলাল হোসেনের তিন মেয়ের মধ্যে আয়েশা ছিল সবার ছোট। এর আগে একই ঘটনায় বড় মেয়ে সালমা আক্তার স্মৃতি (১৮) শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বেলাল হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্থানীয় সূতারগোপ্তা এলাকার সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৯ ডিসেম্বর রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বাইরে থেকে বসতঘরের দুটি দরজায় তালা লাগিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরের ভেতর থাকা আয়েশা পুড়ে মারা যায়।
জানা গেছে, পাকা ভিটায় নির্মিত টিনশেড ঘরের তিনটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন বেলাল হোসেন, তার স্ত্রী নাজমা বেগম, তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। আগুন লাগার পর বেলাল কোনো রকমে স্ত্রী, চার বছর বয়সী ছেলে নাজমুল ইসলাম, চার মাস বয়সী শিশু নজরুল ইসলাম, বড় মেয়ে স্মৃতি ও মেজো মেয়ে সামিয়া আক্তারকে ঘরের টিনের বেড়া তুলে বের করতে সক্ষম হন। কিন্তু আগুনের তীব্রতায় আয়েশার কাছে পৌঁছাতে পারেননি। পরিবারের সবার চোখের সামনেই আগুনে পুড়ে মারা যায় আদরের কন্যা।
এ ঘটনায় বড় মেয়ে স্মৃতির শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়। ঢাকায় নেওয়ার পর ২৫ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর প্রবাসে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে স্মৃতির মুঠোফোনে বিয়ে হয়েছিল। তবে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া হয়নি তার।
এক আগুনে দুই মেয়েকে হারিয়ে বেলাল হোসেন ও নাজমা বেগম দম্পতি এখন শোকের সাগরে নিমজ্জিত। মেজো মেয়ে সামিয়ার শরীরের দুই শতাংশ পুড়লেও প্রাথমিক চিকিৎসায় সে সুস্থ রয়েছে।
বেলাল হোসেন বলেন,‘এক আগুনে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ছোট মেয়েটা ‘আব্বু আব্বু’ বলে ডাকছিল, কিন্তু আমি তাকে বাঁচাতে পারিনি। সেই ডাক আজও আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে।’
তিনি জানান, আয়েশার জানাজা ও দাফনের সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বড় মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েও অসুস্থতার কারণে ঢাকায় যেতে পারেননি। দুই মেয়েকে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি ভাইয়ের বাড়ির বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

