মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাতে ইরানকে উন্নত স্যাটেলাইট ইমেজারি এবং ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আবহে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক সহযোগিতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেমলিন মূলত তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে মোডিফাইড (পরিমার্জিত) ‘শাহেদ’ ড্রোনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে, যা ড্রোনগুলোর যোগাযোগ, নেভিগেশন এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাশিয়া এখন ইরানকে ড্রোন হামলার কৌশলগত পরামর্শ দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে একইসাথে কতটি ড্রোন ব্যবহার করতে হবে এবং ঠিক কত উচ্চতা থেকে আঘাত করলে তা কার্যকর হবে, এমন সুনির্দিষ্ট কারিগরি দিক।
এছাড়া মার্কিন ও তাদের মিত্র বাহিনীর অবস্থান সংক্রান্ত নিখুঁত তথ্য রাশিয়ার অ্যারোস্পেস ফোর্সের স্যাটেলাইট বহরের মাধ্যমে তেহরানকে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই উচ্চতর ইমেজিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থল ও নৌ-বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং হামলার পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করতে সক্ষম হচ্ছে ইরান।
রাশিয়ার এই প্রকাশ্য সহযোগিতার খবর এলেও হোয়াইট হাউস একে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার জন্য বড় কোনো হুমকি হিসেবে দেখছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস দাবি করেছেন, অন্য কোনো দেশের সরবরাহ করা তথ্য বা প্রযুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশনাল সাফল্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে তারা ইরানের ৭ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তু এবং ১০০টিরও বেশি নৌ-যান ধ্বংস করেছে। ফলে ইরানের পক্ষ থেকে চালানো মিসাইল হামলা ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৯৫ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: ওয়াশিংটন

