আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদদের সাফল্য ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরতে বিশেষ জাতীয় গোলটেবিল আলোচনা আয়োজন করে ডেইলি সান। ‘গ্রেস প্রেজেন্টস রাইজ অব উইমেন’স স্পোর্টস’ শিরোনামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারী ক্রীড়ার অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের নারী ক্রীড়াবিদ, কোচ, ক্রীড়া সংগঠক ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন। ডেইলি সানের এই উদ্যোগে টাইটেল পার্টনার হিসেবে ছিল গ্রেস এবং অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল এস-রহমান প্রপার্টিস ও বসুন্ধরা মেডিকেল সিটি। আয়োজকদের মতে, করপোরেট খাতের এ ধরনের সম্পৃক্ততা নারী ক্ষমতায়ন ও নারী ক্রীড়ার বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানটি এমন একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়, যেখানে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের নারী ক্রীড়াবিদরা তাদের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। বর্তমান ও সাবেক জাতীয় দলের খেলোয়াড়, কোচ এবং ক্রীড়া কর্মকর্তারা নারী ক্রীড়ার বিকাশে বিদ্যমান কাঠামোগত, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো আলোচনায় তুলে ধরেন।
আলোচনায় উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধার সীমাবদ্ধতা, আর্থিক নিরাপত্তার অভাব, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা এবং গণমাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রচারের ঘাটতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। অনেক ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতামূলক ক্যারিয়ার শেষে নারী খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
গোলটেবিল আলোচনায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ক্রীড়াবিদ ও কোচদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো নোট নেন। তিনি আশ্বাস দেন, নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য আরও ভালো পরিবেশ ও সুযোগ তৈরিতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদদের ধারাবাহিক সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, নারী ক্রীড়াবিদদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও দৃঢ়তা দেশের জন্য গর্বের এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক সালমা খাতুন, জাতীয় দলের পেসার মারুফা আক্তার এবং অলরাউন্ডার শর্না আক্তার। এছাড়া বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ হকি দলের অধিনায়ক অর্পিতা পাল ও গোলরক্ষক হিমাদ্রি বড়ুয়া সুখ, বাংলাদেশ নারী জাতীয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজার এস এম গোলাম ফাইয়াজ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় সানজিদা আক্তার, জাতীয় শুটিং দলের কামরুন্নাহার কলি ও তাসমায়াতি এমা আলী এবং দাবা থেকে নারী ফিদে মাস্টার নওশিন আঞ্জুম। এছাড়া জাতীয় আর্চারি দলের বন্না আক্তার, জাতীয় বক্সার সানজিদা জান্নাত, টেবিল টেনিস খেলোয়াড় খয় খয় সাই মারমা, সাদিয়া রহমান মৌ ও সোনাম সুলতানা সোমা এবং ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তারও উপস্থিত ছিলেন।
তরুণ ফুটবলারদের মধ্যেও অনেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস এবং অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় সিনহা জাহান সিখা।
কোচিং কমিউনিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নারী ফুটবল কোচ লিনা চাকমা, ফুটবল কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন এবং নারী ফুটবল কোচ মাহমুদা শরিফা অদিতি।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে ক্রীড়াবিদরা বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দৃঢ়তা, পরিশ্রম ও অদম্য মানসিক শক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে নারী ক্রীড়ার উত্থান ঘটছে। নীতিগত সহায়তা, উন্নত অবকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন আরও জোরদার হলে ভবিষ্যতে দেশের নারী ক্রীড়া নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে নারীক্রীড়ায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচজন কৃতী নারী ক্রীড়াবিদকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা পাওয়া ক্রীড়াবিদরা হলেন- ক্রিকেটার সালমা খাতুন, ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার, ফুটবলার সানজিদা আক্তার, ক্রিকেটার নিগার সুলতানা জ্যোতি এবং সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা।
অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তাসভীর উল ইসলাম।

