নারায়ণগঞ্জের বন্দরের লাঙ্গলবন্দে প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মালম্বীদের পুণ্য স্নানোৎসব ‘পাপমুক্তির’ মহাস্নান। এই উৎসবকে ঘিরে দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো পুণ্যার্থীর পদচারণে মুখরিত হয়েছিলো লাঙ্গলবন্দের তিন কিলোমিটার এলাকা।
এবারের স্নানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুণ্যার্থীর পাশাপাশি ভারত, নেপাল, ভুটান সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পুণ্যার্থীরা এসেছে।
সেই সাথে ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর’ এ মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে পুণ্যার্থীরা স্নান করেন। বুধবার বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে লগ্ন শুরু হয়ে শেষ হয়ে শেষ হয় বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায়। স্নানঘাটগুলোতে পুণ্যার্থীরা ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরিতকী, ডাব, আম পাতা নিয়ে পিতৃকুলের উদ্দেশ্যে নদের জলে তর্পণ করেন।
কুমিল্লা থেকে স্নান করতে আসা চন্দ্র কর বলেন, ‘পুণ্যস্নানে নিজের পরিবারের জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছি। এ ছাড়া দেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করেছি।’ ব্রাহ্মনবাড়িয়া থেকে আসা রতন আচার্য বলেন, ‘মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি সকলের মঙ্গলের জন্য।’
পুরোহিত হরি সাধন চক্রবর্তী বলেন, যুগ যুগ ধরে ভগবানের কৃপা লাভের আশায় দেশ ও বিদেশের পুণ্যার্থীরা এখানে স্নান করতে আসেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, ‘পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় দুই শিফটে প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আলাদা ব্যবস্থা ছিলো। আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করছেন। নৌ পুলিশও মোতায়েন ছিলো যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। সেই সাথে পুরো তিন কিলোমিটার এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছিলো। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবীর বলেন, ‘পুণ্যার্থীদের জন্য সেবাকেন্দ্রে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছিলো এবং জেলা প্রশাসনের একজন এডিসি সার্বক্ষণিক দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া ১০ শয্যার একটি অস্থায়ী হাসপাতাল, মেডিকেল টিম, রোগী পরিবহনের জন্য রিকশা ও ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো পুণ্যার্থীদের সেবা দেয়ার জন্য।’

