ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিএডিসি আলু-১ (সানশাইন) জাতের আলু উৎপাদন প্রদর্শনী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএডিসি আলু-১ (সানসাইন) জাতের আলু আবাদ করা হয়েছে। উন্নত জাতের এ আলুর আকর্ষণীয় রং, সমান আকার ও উচ্চ ফলনের কারণে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, নবীনগর উপজেলার পৌরসভা, বিটঘর, ইব্রাহিমপুর ও নাটঘর, বড়ইকান্দি ইউনিয়নে ৫টি স্থানে ৫ বিঘা জমিতে সাইসাইন জাতের আলু উৎপাদন প্রদর্শনী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ২৮৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে নতুন জাত হিসেবে ফলন পার্থক্য বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ৫ বিঘা জমিতে। অন্যান্য জাতের তুলনায় আলুর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। প্রদর্শনী প্লটে হেক্টর প্রতি ফলন ৩৫ থেকে ৪০ মেট্রিক টন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। শতাংশ প্রতি গড় ফলন প্রায় ৩ মণ। সানসাইন জাতটি স্বল্প মেয়াদি গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই আহরণযোগ্য হয়। ফলে কৃষকরা কম সময়ে বাজারজাত করতে পারছেন। উপজালার বড়িকান্দি ইউনিয়নের নূরজাহানপুর বøকের কৃষক আমির হোসেন জানান, আগে ডায়মন্ট আলু আবাদ করতাম। চলতি বছর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে সানসাইন জাতের আলু চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারে এর চাহিদা ভালো থাকবে বলে আশা করছি।
ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজা বেগম জানান, কৃষি অফিস থেকে সার, বীজ ও পরামর্শ নিয়ে এক বিঘা জমিতে সানসাইন জাতের আলু আবাদ করেছি। ৩৩ শতকে প্রায় ১০০ মণের বেশি আলু উত্তোলন হয়েছে। স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় এই জাত লাভজনক মনে হয়েছে। নবীনগর উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, বিএডিসি আলু-১ (সানসাইন) জাতের আলুর গড় বয়স ৬৫ থেকে ৭০ দিন। এটি একটি সুপার ভ্যারাইটি, স্বল্প দিনের উচ্চফলনশীল জাত। শতাংশ প্রতি গড় ফলন প্রায় ৩ মণের অধিক। ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় আগামী বছর এ জাতের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা আরও বৃদ্ধি করা হবে। নভেম্বর মাস (মধ্য-কার্তিক থেকে মধ্য-অগ্রহায়ণ) এ জাতের রোপণের উপযুক্ত সময়। তিনি আরো জানান, উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির স¤প্রসারণের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় বাড়াতে এ ধরনের প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

