চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ ডিপসিক তাদের চ্যাটবটে নতুন একটি সুবিধা যুক্ত করেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইন্টারলিভড থিংকিং’ (ধাপে ধাপে যুক্তিসহ চিন্তা করার ক্ষমতা)।
এই প্রযুক্তির ফলে চ্যাটবট এখন একাধিক ধাপে গবেষণা করতে পারে এবং প্রতিটি ধাপে নিজের যুক্তি ব্যবহার করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়।
ডিপসিক জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে তাদের ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপে এই ফিচার চালু করা হয়। আগে চ্যাটবট সব চিন্তা শেষ করে তারপর উত্তর দিত। এখন এটি কাজের মাঝেই তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নেওয়ার আগে সেটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা যাচাই করে নেয়। প্রয়োজন হলে অন্য উৎস থেকেও তথ্য মিলিয়ে দেখে।
এই নতুন সুবিধা চালুর পর ডিপসিকের ব্যবহারকারী সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্ল্যাটফর্মটির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রায় ১৩ কোটি ১৫ লাখে পৌঁছায়। এটি আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্যবহারকারী ছিল ৩ কোটি ৩৭ লাখ, যা এপ্রিলের মধ্যে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ৬৯ লাখে।
এই ফিচারের ভিত্তি হলো ডিপসিক ভি৩.২ মডেল, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে প্রকাশ করা হয়। এটি প্রথম মডেল যেখানে চিন্তাভাবনাকে সরাসরি বিভিন্ন টুল ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এতে বারবার একই বিষয়ে নতুন করে চিন্তা করার ঝামেলা কমে গেছে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, সহজ প্রশ্নে এই গভীর চিন্তার মোড নিজে থেকে চালু হয় না। তবে জটিল প্রশ্ন দিলে ব্যবহারকারীরা ধাপে ধাপে চিন্তার পুরো প্রক্রিয়া দেখতে পারেন।
এই সক্ষমতার মাধ্যমে ডিপসিক এখন ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই কাতারে চলে এসেছে। ডিপসিক দাবি করছে, কম খরচে প্রশিক্ষণ দিয়েও তারা উন্নত মানের এআই মডেল তৈরি করতে পারছে, যা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

