নড়াইল সদর উপজেলার শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে বাবা-ছেলেসহ হত্যাকাণ্ডের শিকার চারজনের দাফন আজ মঙ্গলবার বিকেলে সম্পন্ন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ এবং একই দলের ফেরদাউস হোসেনের দাফন শিঙ্গাশোলপুর কবরস্থানে ও অপর নিহত ওসিকুর ফকিরের দাফন তারাপুর গ্রামের কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে।
খলিল শেখ ও ফেরদাউস হোসেনের স্বজনরা বলেন, সোমবার ভোরে প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়েরের লোকজন অতর্কিতভাবে আমাদের লোকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে নৃশংসভাবে কুপিয়ে আমাদের পক্ষের তিনজনকে হত্যা করে চলে যায়।
নিহত তাহাজ্জত শেখের স্ত্রী সুমী বেগম বলেন, সোমবার ভোররাতে তারাপুর গ্রাম থেকে আসা ও আমাদের গ্রামের প্রতিপক্ষরা মিলে কমপক্ষে ৫০-৫৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে আমার শ্বশুর খলিল শেখ ও স্বামী তাহাজ্জতকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপুর্যপুরিভাবে শরীরের একাধিক স্থানে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। এ ছাড়া আমাদের প্রতিবেশী ও পক্ষের ফেরদাউসকেও একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চাই।
তারাপুর গ্রামে পৌঁছে দেখা যায় গ্রামটি পুরুষশূন্য। নিহত ওসিকুর ফকিরের নারী স্বজনরা হাউমাউ করে কাঁদছেন। ওসিকুরের মা মহির নেসা বলেন, খলিলের ছেলেরা ও তার ভাই হাবিলের ছেলেরা মারামারি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে গিয়ে আমার ছেলে ওসিকুরসহ বাড়ির নারীদের প্রায়ই খুনজখম ও লুটপাটের হুমকি-ধমকি দিত। খলিল ও তার লোকজন আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তারা হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও বাড়িতে অবস্থান করছে। অথচ আমাদের পক্ষের নিরীহ লোকজন পুলিশের ভয়ে বাড়িছাড়া। আমাদের আত্মীয়স্বজনদের পর্যন্ত পুলিশ আটক করেছে।
নড়াইল সদর থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে সোমবার ভোরে বাবা-ছেলেসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ ও র্যাব। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আশা করি, দ্রুতই রহস্য উদঘাটিত হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আটক করা সম্ভব হবে।

