কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ গ্রামের মাঠ। যতটুকু চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। যেন কোনো শিল্পী তুলি দিয়ে হলুদ রঙের প্রলেপ দিয়েছেন। এক সময় এই জমি গুলো খালি পড়ে থাকতো। সেখানে এখন ফুলের রাজ্য।
এর আগে এই মাঠে সরিষার চাষ হতো না। গত বছর থেকে চাষ শুরু হয়। প্রথম বছর ১০ একর জমিতে চাষ হয়। লাভ দেখে অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হন। এবার সেখানে ২০ একর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সরিষার পাতায় কুয়াশা জমেছে। সেখানে রোদ পড়ে চকচক করছে। এদিকে সরিষা ফুলের সাথে ভাব জমাচ্ছে মৌমাছি। মৌমাছির নাচানাচি দেখে মনে হয় ভালো মধু পেয়ে সে খুশি। তার সাথে ভালো ফলন দেখে খুশি সরিষার চাষিরাও। তারা জমির আগাছা পরিষ্কার করে দিচ্ছেন। একই দৃশ্য পাশের সুলতানপুর গ্রামের মাঠেও। বাতাসের গায়ে সরিষা ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকটি পাখিও ড্রোনের মতো আকাশ থেকে ডাক তুলে সরিষার জমির রূপ গিলছে। কিছু জমিতে কৃষকরা বালাইনাশক ছিটিয়ে দিচ্ছেন।
বড় মাঠ দেখা যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার বড় আলমপুরে। সেখানে সরিষা ফুলের উৎসব বসেছে। স্থানীয়রা এই মাঠকে দেবিদ্বারের সিরাজগঞ্জ বলে অভিহিত করেন।
ফতেহাবাদের মাঠে ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমা আক্তার ও বড় আলমপুরের মাঠে এটি এম রাশেদুজ্জামান সরকার মাঠে কৃষকদের সরিষার রোগ বালাই প্রতিরোধে পরামর্শ দিচ্ছেন।
ফতেহাবাদের চাষি জসিম উদ্দিন.মো. সুমন ও আলাউদ্দিন বলেন, এই মাঠে ২০-২৫ বছর আগে দেশি সরিষার চাষ হতো। এক সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। এখানের অনেক মাঠ পড়ে খালি থাকতো। কৃষি অফিসের পরামর্শে আমরা গত বছর থেকে চাষ শুরু করি। ভালো ফলন হওয়ায় এবার আরো বেশি জমিতে চাষ করেছি।
সুলতানপুরের আবদুল্লাহ আল মামুন ও আল আমিন খন্দকার বলেন, জমি পতিত থাকতো। আমরা গত বছর থেকে সরিষা চাষ শুরু করি। আমাদের দেখে অন্য চাষিরাও সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।.
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, আমার ব্লকে ২ হেক্টরের মতো সরিষার চাষ হতো। অনেক জমি খালি পড়ে থাকতো। আমরা উদ্বুদ্ধ করার পর গত বছর ১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়। এবার তা বেড়ে ২০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
বড় আলমপুরের চাষি মো. কামরুল ইসলাম ও দক্ষিণ ভিংলা বাড়ির সফিকুল ইসলাম বলেন, বড় আলমপুরের মাঠটি এই সময় খালি পড়ে থাকতো। এবার প্রথম আমরা সরিষার চাষ করছি। মাঠের ফলন দেখে ভালো লাগছে। অন্য কৃষকরাও আগামী সরিষা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অনেকে মাঠে এসে ছবি তোলে, ঘুরে বেড়ায়।
দেবিদ্বার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ বানিন রায় বলেন, দেবিদ্বার উপজেলায় এবার ৩৯৭ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এই উপজেলায় সাধারণত ধান ও আলু বেশি চাষ হয়। এখানে সরিষার চাষ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। গত তিন বছর ধরে এখানে সরিষার চাষ বাড়ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে এখানের কৃষকরা আগ্রহী হয়েছেন।

