সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণ দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দলটি যদি পুরোপুরি নিরস্ত্র না হয় তবে তাদের খুব দ্রুতই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে এখন শান্তি বিরাজ করছে এবং হামাস তাদের অস্ত্র জমা দিতে রাজি হয়েছে। যদিও ফিলিস্তিনি এই সংগঠনটি প্রকাশ্যে এখনো এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদিকদের জানান, হামাস আসলে কী করবে তা আগামী দুই-তিন দিন বা সর্বোচ্চ তিন সপ্তাহের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। তারা যদি নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তবে তাদের পরিণাম হবে ভয়াবহ।
মিশরীয় প্রেসিডেন্ট আবদেল-ফাত্তাহ আল-সিসির সাথে বৈঠকের প্রাক্কালে ট্রাম্প আরও বলেন, অন্তত ৫৯টি দেশ গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী। তারা প্রয়োজনে হামাসকে নির্মূল করতেও দ্বিধা করবে না। তিনি স্পষ্ট করে দেন, হামাসের সামনে এখন নিরস্ত্র হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই, অন্যথায় তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।
এদিকে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে গাজার নিরাপত্তা ও ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত দেশের সমর্থন পাওয়া গেছে এবং খুব শীঘ্রই এই বাহিনীর বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে গাজার শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কাতার ও তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মার্কিন পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গাজার কোনো প্রশাসনিক বোর্ডে তুরস্ক বা কাতারের কোনো প্রভাব তিনি মেনে নেবেন না। এই উত্তেজনার মধ্যেই আগামী ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন নেতানিয়াহু, যেখানে ট্রাম্পের সাথে তার সরাসরি আলোচনার কথা রয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর এটিই হতে যাচ্ছে নেতানিয়াহুর পঞ্চম যুক্তরাষ্ট্র সফর।

