চলতি বছরের জানুয়ারিতে মরক্কোর মাটিতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে সহিংসতার জেরে দেশটিতে আটক থাকা সেনেগালের একদল সমর্থক বীরের বেশে দেশে ফিরেছেন।
মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে মরক্কোর রাজা মোহাম্মদ মানবিক বিবেচনায় রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণা করার পর তার দেশে পৌঁছেছেন। বুধবার (২৭ মে) মরক্কোতে ঈদুল আজহা উৎযাপিত হবে ।
স্থানীয় সময় (২৪ মে) ডাকার বিমানবন্দরের বাইরে ফেরত আসা সমর্থকদের স্বাগত জানাতে স্বয়ং হাজির হয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, তাদের আবার সেনেগালের মাটিতে ফিরে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
গত ১৮ জানুয়ারিতে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে সেনেগাল ১-০ গোলে জয়লাভ করলেও, একপর্যায়ে আপিলের পর ম্যাচটির আয়োজক মরক্কোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ওইদিন ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে, সেনেগালের একটি গোল বাতিল হওয়ার ঠিক পরেই, মরক্কোকে একটি পেনাল্টি দেওয়া হলে সেনেগালের সমর্থকরা মাঠে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে।
তারা গ্যালারি থেকে মাঠে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং একের পর এক জিনিসপত্র ছুড়ে মারেন। পেনাল্টির সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে খেলা বয়কট করে মাঠ ছেড়ে চলে যান সেনেগালের ফুটবলাররা।
এরপর সহিংতার জেরে মরক্কোর আদালত ফাইনালের পর থেকে সেখানে আটক থাকা ১৮ জন সেনেগালের সমর্থককে তিন মাস থেকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়। তিন মাসের সাজা শেষ করে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তিনজনকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। অথচ গত জানুয়ারির সেই ফাইনালের আসল চ্যাম্পিয়নশিপের ভাগ্য এখনো সুইজারল্যান্ডের ‘কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট’-এ বিচারাধীন রয়েছে।
সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে এক্সে দেওয়া পোস্টে মরক্কোর রাজার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। মরক্কোর পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় অনুসারে, ১৮ জন ফুটবল সমর্থকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মূলত রাবাতের মৌলে আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামের ক্যামেরার ফুটেজ এবং আহত আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা ও স্টুয়ার্ডদের মেডিকেল সার্টিফিকেটের উপর ভিত্তি করে আনা হয়েছিল।
জানুয়ারির শেষে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ এবং ফেয়ার প্লে-র নীতি লঙ্ঘনের জন্য উভয় জাতীয় ফেডারেশনের উপর শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে ১৭ মার্চ কনফেডারেশন প্রশাসনিক রায়ের মাধ্যমে আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস মরক্কোকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, সেনেগাল ক্রীড়া সালিশি আদালতে আপিল করে।

