পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দানে। উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ এই মাঠে ঈদের জামাতের সকল প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। এবারও লাখো মুসল্লির পদভারে মুখরিত হবে গোর-এ শহীদ ময়দান।
গোর-এ শহীদ ময়দানে সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের প্রধান জামাতের নামাজের ইমামতি করবেন মাওলানা মাহফুজুর রহমান।
ইতোমধ্যে গোর-এ শহীদ ঈদগাহ বড় ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার নিমিত্তে জেলা প্রশাসন প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে। ঈদগাহ মাঠ নামাজের উপযোগী এবং দৃষ্টিনন্দন করতে রং-সহ বিভিন্ন কাজ সকল প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।
বুধবার দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতকে ঘিরে প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রিয়াজ উদ্দিন।
জানা গেছে, ঈদগাহজুড়ে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। ঈদের দিন সকাল থেকে মুসল্লিরা মাঠের প্রবেশ পথ দিয়ে আসবেন। বসানো হচ্ছে অসংখ্য মাইক। ওজু করতে যেন অসুবিধা না হয় এজন্য একাধিক ওযুখানা এবং পানির ব্যবস্থা রাখা হবে। জেলা প্রশাসন ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজন সম্পন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ সদস্য, সাদা পোশাকে ডিবি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশ থাকবে। যাতে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে এখানে আসতে পারে এবং নামাজ আদায় করে শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যেতে পারে সে ব্যবস্থাপনা জেলা পুলিশ রেখেছে।
উল্লেখ্য, দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ২০১৭ সালে নির্মিত হয় ৫২ গম্বুজের এ ঈদগাহ মিনার। এই ৫০ গম্বুজের দুই ধারে ৬০ ফুট করে দু’টি মিনার, মাঝের দু’টি মিনার ৫০ ফুট করে। ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম গম্বুজ অর্থাৎ মেহেরাবের (যেখানে ইমাম দাঁড়াবেন) উচ্চতা ৪৭ ফুট। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৪৯টি গম্বুজ। এছাড়া ৫১৬ ফুট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনার সিরামিক্স ইট দিয়ে আচ্ছাদিত। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর ঈদের নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। উপমহাদেশে এতবড় ঈদগাহমাঠ দ্বিতীয়টি নেই। এছাড়াও পর্যটকদের কাছেও এটি দর্শনীয়।

