হিন্দি চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ এবং আশির দশকের জনপ্রিয় শিশুশিল্পী ‘বেবি গুড্ডু’র বাবা, প্রবীণ চলচ্চিত্র নির্মাতা এম এম বেগ (৭০) আর নেই। মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবন থেকে এই নির্মাতার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কয়েক দিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর তার বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।
গত কয়েক দিন ধরে এম এম বেগকে বাড়ির বাইরে দেখা যায়নি। তার জনসংযোগ কর্মকর্তা হানিফ জাভেরি জানান, প্রবীণ এই নির্মাতা গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং বাড়িতে একাই থাকতেন। বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে প্রতিবেশীরা স্থানীয় থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি কুপার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এম এম বেগের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল সহকারী পরিচালক হিসেবে। তিনি জে ওম প্রকাশ, বিমল কুমার এবং রাকেশ রোশনের মতো নামী নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। ‘আদমি খিলোনা হ্যায়’, ‘জ্যায়সি করনি ওয়াইসি ভরনি’, ‘কালোবাজার’ এবং ‘কিষেন কানহাইয়া’র মতো মূলধারার ছবিতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
হানিফ জাভেরি আরও জানান, অভিনেতা হৃতিক রোশনের ক্যারিয়ার গঠনেও বেগের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। প্রথম ছবি ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’-তে অভিনয়ের আগে হৃতিককে উচ্চারণ, কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণ এবং সংলাপ প্রক্ষেপণে তালিম দিয়েছিলেন তিনি।
এম এম বেগের মেয়ে শাহিন্দা বেগ, যিনি পর্দায় ‘বেবি গুড্ডু’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। আশির দশকে ‘আখির কিউ?’, ‘নাগিনা’ এবং ‘অওলাদ’-এর মতো হিট ছবিগুলোতে শিশুশিল্পী হিসেবে তিনি দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান তিনি।
স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে এম এম বেগ ‘ছোটি বহু’ (শিল্পা শিরোদকর অভিনীত) পরিচালনা করেছিলেন। এ ছাড়া নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত তার ‘মাসুম গাওয়াহ’ ছবিটি দুর্ভাগ্যবশত মুক্তি পায়নি। তার প্রয়াণে বলিউড পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

