দুবাইয়ে ড্রোন হামলায় পাকিস্তানি নিহত

0
দুবাইয়ে ড্রোন হামলায় পাকিস্তানি নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই হামলা প্রতিরোধ করা হলেও ভূপাতিত হওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, দুবাইয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দুবাই মিডিয়া অফিস। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের পশ্চিমাংশে অবস্থিত আল বারশা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ওই পাকিস্তানি নাগরিক পেশায় গাড়িচালক ছিলেন।

দুবাই মিডিয়া অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, আকাশে হামলা প্রতিহত করার সময় ভূপাতিত ধ্বংসাবশেষ আল বারশা এলাকায় একটি গাড়ির ওপর পড়ে। এতে এক পাকিস্তানি গাড়ি চালকের মৃত্যু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

এই ঘটনা ইরানের একটি ড্রোন থেকে ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত ২৩ মেরিনা টাওয়ারের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে দ্য মিরর পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি হামলার ঘটনা আকাশে প্রতিহত করার সময় ভূপাতিত ধ্বংসাবশেষ গাড়ির ওপর পড়লে ওই ব্যক্তি নিহত হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দুবাইয়ে একটি গাড়িতে আগুন জ্বলতে এবং একটি সুউচ্চ ভবনের কাছে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ভবনটি ২৩ মেরিনা টাওয়ার।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকির জবাব দিতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয় জানায়, সারাদেশে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে তা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার ফল।

দুবাইয়ের ঘটনাগুলোর আগে শনিবার এক দিনেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৯টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করা হয়।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইরানের প্রকাশ্য আগ্রাসন শুরুর পর থেকে মোট ২২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০৫টি ধ্বংস করা হয়েছে, ১৪টি সমুদ্রে পড়ে গেছে এবং দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতরে এসে পড়েছে।

এছাড়া মোট এক হাজার ৩০৫টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২২৯টি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং ৭৬টি ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতরে এসে পড়েছে। পাশাপাশি আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

এর আগের হামলাগুলোতে তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি, একজন নেপালি এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিক। এছাড়া বিভিন্ন দেশের মোট ১১২ জন নাগরিক সামান্য আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া তথা ‘প্রতিবেশী দেশগুলোতে’ হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। এর জেরে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে ইরানি বাহিনী। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here