ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের আবাসন খাতে। গত এক মাসেরও কম সময়ে দুবাইয়ের আবাসন খাতের শেয়ারসূচকে প্রায় ৩০ শতাংশ পতন হয়েছে। খবর আনাদোলু।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালানোর পর থেকেই এ অস্থিরতার সূচনা হয়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইসরায়েল ও জর্ডানের পাশাপাশি যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, ইরান সেসব দেশকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট রিয়েল এস্টেট ইনডেক্স (ডিএফএমআরইআই) গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল ১৬ হাজার ১৪০ পয়েন্টে। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে ধারাবাহিকভাবে কমে গত শুক্রবার লেনদেন শেষে তা ১১ হাজার ৫০০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এটি ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান।
সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটিব্যাংক এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের কিছু শাখা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দুবাইয়ের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে উত্থান
অন্যদিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক সপ্তাহের টানা পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গেছে। সোমবার লেনদেন শেষে তিনটি প্রধান সূচকই বেড়েছে। ডাও জোন্স সূচক প্রায় ০.৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রযুক্তি খাতভিত্তিক নাসডাক কম্পোজিট বেড়েছে প্রায় ১.২ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় তেলের দামও কিছুটা কমেছে। সকালে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০২ ডলার পর্যন্ত উঠলেও পরে তা কমে প্রায় ৯৩ ডলারে নেমে আসে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের সবচেয়ে ভালো দিন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

