কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা এবং ভালো ফলনের আশায় দিনাজপুর জেলায় সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় সূর্যমুখী চাষের জন্য ৫৪ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ৫৫ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সে হিসেবে জেলায় প্রায় ৬৯ মেট্রিক টন সূর্যমুখীর বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে মাঠজুড়ে সোনালি সূর্যমুখী ফুলের মনোরম দৃশ্য স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা ফুলগুলো সূর্যের দিকে মুখ তুলে যেন হাসছে। রাস্তার পাশে এসব ফুলের সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই থেমে যাচ্ছেন, অনেকে আবার ছবি ও সেলফিও তুলছেন।
দিনাজপুর সদর উপজেলার খামার কান্তবাড়ী বিদ্যাশ্বরী গ্রামের কৃষক সহরাফ আলী এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তার খেতে দর্শনার্থীরা ৫০ টাকা টিকিট দিয়ে প্রবেশ করে বাগানে ঘুরে বেড়ানো ও ছবি তুলছেন।
এছাড়া বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের গরুল গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী চাষ করে তিনি সফল হন। তাই এবার প্রায় এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গতবারের চেয়েও বেশি লাভের আশা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, তার সূর্যমুখী ক্ষেত প্রকৃতিপ্রেমীদের দারুণভাবে আকর্ষণ করছে। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী সেখানে ভিড় করছেন। মন খারাপ থাকলেও এই ফুলগুলোর দিকে তাকালে মন ভালো হয়ে যায় বলেও জানান তিনি।
রুম্মান আক্তার, কৃষিবিদ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, বিরল উপজেলা বলেন, সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং সার ও বীজ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে সূর্যমুখী একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হতে পারে। ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করছে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, জেলায় সূর্যমুখী চাষ দিন দিন বাড়ছে। এ মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে চাষ হয়েছে, যা ভোজ্য তেলের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

