সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লিচুর মুকুল। ফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। প্রতিটি লিচু গাছের শাখায় শাখায় শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় মুকুল। লিচুর রাজ্য দিনাজপুরে দেশসেরা লোভনীয় সেই লিচুর বাগানে এখন মুকুলের সমারোহ আর মৌ মৌ গন্ধ।
এ জেলায় দিন দিন লিচু চাষ বেড়েই চলেছে। গাছে মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকরা গাছ পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারও লিচুর বাম্পার ফলনের আশা বাগান মালিকসহ সবার। এরই মধ্যে লিচু বাগান আগাম বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। এ অঞ্চলে লিচু বাগান নিয়ে ৪ মাস ব্যবসা চলবে।
মিষ্টি ও রসালো স্বাদ আর বৈশিষ্ট্য নিয়ে দিনাজপুরের বিভিন্ন জাতের মধ্যে বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-থ্রি আর দেশী লিচুর মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে গাছের ডালপালা। লিচু বাগানগুলোতে শুধু মুকুলের সমারোহ।

দিনাজপুর সদরের মাসিমপুর, কসবা, বাশেরহাট, পুলহাট, পাঁচবাড়ি, খানসামা ও বিরল উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় এবার লিচু গাছের ডালে ডালে মুকুল এসেছে। অন্যান্য জাতের লিচু গাছের মুকুল দেখে অনেক মালিক আশাবাদী, বাগান বিক্রি করে এবারও লাভবান হবেন। বৈশাখ মাসে লিচু পাকা শুরু হয় এবং বাজারে পাওয়া যাবে।
পুলহাট-মাসিমপুরের আসাদুজ্জামান লিটন জানান, একসময় দিনাজপুরের দক্ষিণ কোতয়ালী ও মাসিমপুরসহ আশেপাশে কিছু এলাকায় ভিটা, জমি, বসতবাড়ি এবং জমিতে লাগানো গাছই ছিল লিচুর আবাদ। কিন্তু এখন ব্যাপক আকারে বিস্তৃত হয়েছে এই লিচুর চাষ। অনেকে লিচুর বাগানে বিভিন্ন সবজিরও চাষ করছেন। এতে আরও বেশি লাভবান হচ্ছেন তারা।
উদ্যোক্তা মোসাদ্দেক হোসেন জানান, একটি বড় গাছে ২০ থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত এবং সবচেয়ে ছোট গাছে ১ থেকে দেড় হাজার লিচু পাওয়া যায়।

খামারপাড়া গ্রামের লিচু বাগান মালিক ইসমাইল হোসেন বলেন, আমার বাগানে ৪৫০ লিচু গাছ আছে। বাগানে চায়না থ্রি ও বোম্বে জাতসহ বিভিন্ন লিচুর গাছ আছে। প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসছে। বাগানে পানি সেচ দিচ্ছি এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য স্প্রে ব্যবহার শুরু করেছি। আশা করছি গত বছরের চেয়ে এবারের লিচুর ভালো ফলন পাবো।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এবারে জেলায় ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হচ্ছে। এছাড়া, বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে লিচু গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে প্রচুর লিচুর মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে আছে, আশা প্রতিটি গাছে লিচুর প্রচুর ফলন আসবে।
উল্লেখ্য, এক দশক যাবৎ অবিশ্বাস্য গতিতে বৃহত্তর দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় লিচুর চাষ বেড়েছে। জেলা সদরসহ কাহারোল, বিরল, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ প্রভৃতি উপজেলায় এই ফলের চাষাবাদ বাড়ছেই। দিনাজপুরের লিচু সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দেশব্যাপী গণ্ডি ছাড়িয়ে গত বছর বিদেশেও রফতানি হয়।

