দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দল হারলেও ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল ছিলেন সিকান্দার রাজা। চমৎকার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জিতে নেন তিনি। তবে স্বীকৃতিটি পেয়ে কিছুটা অবাক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। আগে কখনও যে ম্যাচ হেরে হাতে ওঠেনি এই পুরস্কার।
হার দিয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ করেছে জিম্বাবুয়ে। দিল্লিতে রবিবার (১ মার্চ) সুপার এইটের ম্যাচে তাদেরকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। এই ম্যাচটিতে জিম্বাবুয়ের হয়ে একাই লড়াই করেন রাজা। চারটি ছক্কা ও আটটি চারে ৪৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। দলটির আর কেউ ৩০ রানও করতে পারেননি।
রাজার ইনিংসের সৌজন্যেই সাত উইকেটে ১৫৩ রান করতে পারে জিম্বাবুয়ে। পরে বল হাতেও দ্যুতি ছড়ান রাজা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই কুইন্টন ডি কককে ফিরিয়ে দেন তিনি। নিজের পরের ওভারে বিদায় করেন এইডেন মার্করামকে। ঝড়ো ইনিংস খেলা ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও তার শিকার।
চার ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৯ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন রাজা। ব্যাটে-বলে পুরা ম্যাচের সেরা পারফর্মার তিনি। এনিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ২১ বার ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হলেন রাজা। এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশিবার ম্যাচ সেরা হয়েছেন একজন। মালয়েশিয়ার ভিরানদিপ সিং ২২ বার এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাকেও ছাড়িয়ে যাওয়া রাজার জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার।
সুপার এইটে কোনো ম্যাচ জিততে না পারলেও গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলেছে জিম্বাবুয়ে। অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো দলকে হারিয়েছে তারা। তাই টুর্নামেন্টে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে খুশি রাজা। ম্যাচ সেরার পুরস্কার নেওয়ার সময় রাজার চোখেমুখে ছিল বিস্ময়ের ছাপ।
তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মনে হচ্ছে, এখানে আমার থাকার কথা না! কখনও ম্যাচ হেরে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হইনি। তবে মনে হচ্ছে, গর্বিত হতেই পারি। পুরো টুর্নামেন্টে ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, জানি গত দুই ম্যাচে বাজেভাবে হেরেছি, তবে আমি মনে করি, প্রতিটি হারই মূল্যবান শিক্ষা দেয়। জিম্বাবুয়ের খেলা দেখলে খেয়াল করবেন, আমরা প্রতিটি ম্যাচেই উন্নতি করেছি।

