‘তেহরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের আইনি ভিত্তি নেই’

0
‘তেহরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের আইনি ভিত্তি নেই’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকেলে তা বৃহত্তর বৈশ্বিক সংকটে রুপ নিতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন।

আন্তর্জাতিক আইনে তেহরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের আইনি ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি। শনিবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত স্ট্র্যাটকম সামিট এ বক্তব্য রাখতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইব্রাহিম কালিন বলেন, মহামারীর পর থেকে বিশ্ব সংকটময় সন্ধিক্ষণ এবং ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সম্প্রতি পঞ্চম বছরে পা দিয়েছে। এই সংঘাতের সমাপ্তি কীভাবে ঘটবে, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই।

কালিন আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার পরিণতি এখনও অনুভূত হচ্ছে। গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও, ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, দখল এবং হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত বছরের জুনে ১২ দিনব্যাপী ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ বর্তমান ইরান সংঘাতের পরিস্থিতিকে সামনে এনে তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান বলেন, আমরা বর্তমানে ইসরায়েল,যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান যুদ্ধের মাঝখানে আছি। ইরান যুদ্ধ যাতে শুরু না হয় এবং এর বিস্তার রোধ করতে তুরস্ক নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘায়িত হলে এই যুদ্ধ অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত ইসরায়েলের শুরু করা এই আঞ্চলিক যুদ্ধ দ্রুত একটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। যার জন্য আট বিলিয়ন মানুষকে মূল্য দিতে হবে।

কালিবান বলেন, এই সংঘাত এই অঞ্চলে বিভেদ আরও গভীর করতে পারে। তাই যুদ্ধ বন্ধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, এই যুদ্ধের একটি পরিকল্পিত ফলাফল শুধু ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নির্মূল করাই নয়, বরং আরও বিপজ্জনকভাবে, এই অঞ্চলের প্রতিষ্ঠাতা জনগোষ্ঠী—তুর্কি, কুর্দি, আরব এবং পারস্যদের মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার পদক্ষেপ।

কালিন জোর দিয়ে বলেন,তুরস্ক এই ধরনের বিভেদে কোনো ভূমিকা রাখবে না। ইস্তাবুল কখনোই বিভেদের আগুনে ঘি ঢালার পক্ষ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। প্রয়োজনে আমরা আগুনের গোলা হাতে নিয়ে বুকে ঠাণ্ডা করব, কিন্তু আমরা কখনোই তা বিভেদের আগুনে নিক্ষেপ করব না।

তিনি বলেন, আমরা খুব ভালো করেই জানি যে, যারা এই যুদ্ধ শুরু করেছে তারা ধ্বংস, সংযুক্তিকরণ ও দখলদারিত্বের নীতির মাধ্যমে লেবানন, সিরিয়া, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং অন্যত্র নতুন বাস্তবতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, তুরস্ক ফিলিস্তিনিদের অধিকার উপেক্ষা করতে দেবে না। এমনকি যুদ্ধ বন্ধে সংলাপ শুরুর প্রচেষ্টাকে ইসরায়েল বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ করেন কালিবান।

তবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধ বন্ধে তুরস্ক সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here