তুর্কি ভাষার স্বর্ণভালুক জিতলো ‘ইয়েলো লেটার্স

0
তুর্কি ভাষার স্বর্ণভালুক জিতলো ‘ইয়েলো লেটার্স

রাজনৈতিক বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিল্পের শক্তিশালী ভাষাসহ জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এবারের আসরে সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণভালুক (গোল্ডেন বেয়ার) জিতেছে তুর্কি ভাষার চলচ্চিত্র ‘ইয়েলো লেটারস’।

জার্মান-তুর্কি নির্মাতা ইলকার চাতাক পুরস্কারটি গ্রহণ করেন জুরি বোর্ডের সভাপতি ভিম ভেন্ডার্সের হাত থেকে। তুরস্কের রাজধানী আনকারায় রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়া এক মঞ্চশিল্পী দম্পতির বৈবাহিক জীবনে কী ঘটে, সেই গল্প তুলে ধরা হয়েছে এতে। ‘ইয়েলো লেটারস’ পরিচালনা করেছেন তুর্কি-জার্মান পরিচালক ইলকার চাতাক।

জার্মানিতে শুটিং করেও টাইটেল কার্ডে তুরস্কের শহরের নাম ব্যবহার করার অভিনব কৌশল ছবিটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। ২২ বছর পর কোনো জার্মান-তুর্কি নির্মাতার হাতে স্বর্ণভালুক ওঠায় এটি চাতাকের জন্য যেমন বড় প্রাপ্তি, তেমনি একটি প্রতীকী মুহূর্তও।

পুরস্কার প্রদানকালে ভিম ভেন্ডার্স বলেন, ছবিটি সর্বাধিনায়কতন্ত্রের বিপরীতে সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক শক্তিশালী সিনেমাটিক ভাষা তৈরি করেছে।উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান ‘সিলভার বিয়ার গ্র্যান্ড জুরি প্রাইজ’ জিতেছে তুর্কি নির্মাতা এমিন এললার-এর ছবি স্যালভেশন। তুরস্কের কুর্দি অঞ্চলের একটি বাস্তব ঘটনাকে ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিতে জাতিগত সংঘাতের পাশাপাশি রূপকভাবে উঠে এসেছে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গও। পুরস্কার গ্রহণের সময় এমিন এললার গাজার ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা একা নন”—এ কথায় পুরো মিলনায়তন করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

তৃতীয় সর্বোচ্চ জুরি পুরস্কার গেছে মার্কিন নির্মাতা ল্যান্স হ্যামার-এর পারিবারিক নাটক কুইন অ্যাট সি-এর ঝুলিতে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগেও ছিল চমক। সেরা পরিচালকের সম্মান পেয়েছেন ব্রিটিশ নির্মাতা গ্রান্ট গি। আর জেন্ডার-নিরপেক্ষ সেরা প্রধান অভিনয়ের সিলভার বিয়ার জিতেছেন জার্মান অভিনেত্রী সান্দ্রা হুলার। রোজ ছবিতে এক নারীর পুরুষ সেজে বেঁচে থাকার জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক চরিত্র অনবদ্যভাবে ফুটিয়ে তোলায় তিনি এই স্বীকৃতি অর্জন করেন।

তবে এবারের বার্লিনাল শুধু চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। গাজা যুদ্ধ নিয়ে জার্মান সরকারের অবস্থান ও উৎসব কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সমাপনী বক্তব্যে উৎসব পরিচালক ট্রিসিলা টাটল বলেন, সমালোচনা, বিতর্ক ও আবেগের প্রকাশ—এসবই গণতন্ত্র ও সিনেমার সৌন্দর্যের অংশ। আর সেই বহুমাত্রিক সংলাপ তুলে ধরতেই এবারের বার্লিন উৎসব সফল হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here