তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইরানের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করতে আসা ইরানি নাগরিকদের বাধা দিয়েছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং বিক্ষোভকারীদের সেখানে জড়ো হতে দেয়নি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কনস্যুলেটের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং পুলিশি ব্যারিকেড বসানো হয়।
তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে তিনটি স্থল সীমান্তপথও আছে। তুরস্কে বর্তমানে বসবাসের অনুমতি পাওয়া ৭৪ হাজারের বেশি ইরানি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার ইরানি শরণার্থীও দেশটিতে বসবাস করছেন।
ইস্তাম্বুলে হালকা বৃষ্টির মধ্যেও কিছু বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের মধ্যে নিনা নামে এক তরুণী ইরানি নির্বাসিত নারী জানান, তিনি নিজ দেশে চলমান বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানাতে এসেছেন। তিনি বলেন, গত ৭২ ঘণ্টা ধরে ইরান থেকে কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ইন্টারনেট ও টেলিভিশন বন্ধ থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
এদিকে ইরানের ভেতরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার রাতে অবস্থা কিছুটা কম উত্তপ্ত ছিল। বিক্ষোভের তীব্রতা কমে আসছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটিতে সরকারপন্থী সমাবেশও শুরু হয়েছে। আগামীকাল বড় ধরনের একটি সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মসজিদে মসজিদে জমায়েত দেখা যাচ্ছে। এসব সমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মূল্য হ্রাস বিক্ষোভের মূল কারণ। সরকারি দমন–পীড়নও বেড়েছে। এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ চলছে, কোথাও কোথাও সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

