‘তিন ম্যাচের তিনটিতেই হার, অবশ্যই হজম করা কঠিন’

0
‘তিন ম্যাচের তিনটিতেই হার, অবশ্যই হজম করা কঠিন’

ডার্বি লড়াইয়ে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে প্রত্যাশা অনুযায়ী বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি রাওয়ালপিন্ডিজ। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৬ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। দলের পক্ষে কামরান গুলাম দায়িত্বশীল হাফসেঞ্চুরি করলেও অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় স্কোর গড়া সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লেতে ধীরগতির ব্যাটিং দলকে চাপে ফেলে দেয়।

এটি ছিল রাওয়ালপিন্ডিজের জন্য অস্বাভাবিক এক ব্যাটিং ব্যর্থতা। কারণ, টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচেই তারা ১৯০ রানের বেশি সংগ্রহ করেছিল। তবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারায় এবার ভুগতে হয়েছে দলটিকে।

জবাবে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড খুব একটা বাধার মুখে পড়েনি। মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে এবং ৩৪ বল হাতে রেখেই ১৫৬ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তারা। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে ইউনাইটেড, পেছনে ফেলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্সকে।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে রিজওয়ান বলেন, “তিন ম্যাচের তিনটিতেই হার, অবশ্যই হজম করা কঠিন। কোনো দলই হারতে পছন্দ করে না।”

ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখার বিষয় হলো, এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। আগের দুই ম্যাচে আমাদের ব্যাটিং ক্লিক করেছিল, কিন্তু আজ আমাদের পাওয়ারপ্ল্যান পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি।”

প্রতিপক্ষের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন রিজওয়ান, “প্রতিপক্ষকেও কৃতিত্ব দিতে হবে, তবে শুধু পাওয়ারপ্লে নয়, আসল ক্ষতি হয়েছে শুরুতেই, যখন তারা সুইং পেয়েছে এবং দ্রুত উইকেট তুলে নিয়েছে। তখনই আমরা সম্ভবত ২০-৩০ রান পিছিয়ে পড়ি।”

টানা হারের পরও আশাবাদী এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। তার মতে, একটি জয়ই বদলে দিতে পারে দলের গতি, “মোটের ওপর বিষয়টা ধীরে ধীরে ঠিক করার। তিনটি ম্যাচ হয়ে গেছে, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করা সহজ নয়, একটি দিক ঠিক করলে অন্য জায়গায় সমস্যা দেখা দেয়। আমাদের যা দরকার, তা হলো একটি জয় এবং সেটিই গতি বদলে দিতে পারে। তখন সবকিছু ঠিক পথে আসতে শুরু করবে।”

দলের মানসিকতা ও লড়াইয়ের দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তিনি, “আমরা আমাদের ভুলগুলো নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব। আগের ম্যাচগুলোতে আমাদের গভীরতা সাহায্য করেছিল, কিন্তু আজ আমাদের ভিন্নভাবে মানিয়ে নিতে হয়েছে। এই সময়ে সাহস দেখিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যাম্পিয়ন দলগুলো এভাবেই ফিরে আসে।”

তবে কেবল ব্যাটিং নয়, বোলিং বিভাগেও সমস্যা রয়েছে বলে স্বীকার করেন রিজওয়ান। এর আগে দুই ম্যাচেই ১৯০-এর বেশি রান করেও তা রক্ষা করতে পারেনি দলটি। ফলে ডিফেন্ডিং নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইনজুরিও দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। পেসার নাসিম শাহ ও জামান খানের চোট দলীয় ভারসাম্যে প্রভাব ফেলেছে বলে জানান অধিনায়ক, “দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে এবং প্রতিপক্ষ অনুযায়ী আমরা পরিবর্তন এনেছি। কিন্তু নাসিম শাহ ও জামান খানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের চোট আমাদের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলেছে।”

তবে এসবকে অজুহাত হিসেবে দেখতে নারাজ রিজওয়ান, “তবুও আমরা এটিকে অজুহাত হিসেবে দেখছি না— পরিবর্তনগুলো ছিল কৌশলগত, প্রতিপক্ষভিত্তিক। সামনে এগোনোর পথে আমরা মানিয়ে নিতে থাকব।”

টানা তিন হারে চাপে পড়া রাওয়ালপিন্ডিজ এখন ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায়। অধিনায়কের বিশ্বাস, একটি জয়ই তাদের আবারও প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here