শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় পূর্বের রাজনৈতিক বিরোধ মিমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে বিএনপির ছয় নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা শাওনের বিরুদ্ধে। শনিবার বিকালে উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চৌধুরী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মী রিফাত নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহতরা হলেন—মালেক খান (৪০), নজরুল সরদার (২২), রমজান সরদার (৩৫), সামছুল সরদার (২৮), আলমগীর সরদার (৩২) ও মহাসিন সরদার (২৯)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চৌধুরী বাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত।
গত ৫ আগস্টের পর শাওন ও তার অনুসারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে তারা এলাকায় ফিরে আসে এবং বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষ মালেক খানকে মিমাংসার জন্য শাওনের বাড়িতে ডাকা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে মালেক খানসহ কয়েকজন সেখানে গেলে হঠাৎই শাওন, রিফাত ও তাদের সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় এবং ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভের মাধ্যমে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে সেখান থেকে তাদের ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।
ডামুড্যা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিপক্ষকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শাওনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং রিফাতের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি দলও সেখানে অবস্থান করছে।
এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

