জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। তেল পাওয়ার আশায় অনেকেই মোটরসাইকেলের ট্যাংকি খুলে হাতে নিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন ভিড় ও দুর্ভোগ।
শনিবার সদর উপজেলার ভূল্লী তিয়াস তিমুসহ বিভিন্ন পাম্পে সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরে থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত মানুষ তেলের অপেক্ষায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ বাইক নিয়ে, আবার কেউ শুধু ট্যাংকি খুলে হাতে নিয়ে লাইনে যোগ দিচ্ছেন— যেন যেভাবেই হোক সামান্য তেল সংগ্রহ করতে হবে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ হওয়ায় সবাই তেল পাচ্ছেন না। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় কেউ কেউ নিয়ম ভেঙে আগে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যার ফলে মাঝেমধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনাও ঘটছে।
একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, দুপুর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনো তেল পাইনি। কেউ কেউ ট্যাংকি খুলে এনে লাইনে দাঁড়াচ্ছে, এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ছে।
এদিকে, ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলায় বর্তমানে ৩৭টি পেট্রোল ও ডিজেল ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৪টি, বালিয়াডাঙ্গীতে ২টি, হরিপুরে ২টি, রাণীশংকৈলে ৫টি এবং পীরগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ৪টি ফিলিং স্টেশন।
এই ৩৭টি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সম্মিলিত চাহিদা প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ লিটার। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। ফলে অনেক পাম্পই বন্ধ করে রেখেছেন মালিকরা।
জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

