যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলো ‘ধামাচাপা’ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ফোরামে অংশ নিয়ে বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিলারি বলেন, “ফাইলগুলো সামনে আনুন। তারা এগুলো প্রকাশে গড়িমসি করছে।”
চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) এপস্টেইন সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নতুন ফাইল প্রকাশ করে। তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য তথ্য এবং শিশু নির্যাতনের গ্রাফিক চিত্র থাকার কারণে ৩০ লাখ পাতার নথি প্রকাশ করা হয়নি বলে ওই সময় জানিয়েছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। এগুলো প্রকাশ পেলে তদন্ত ব্যাহত হবে বলে যুক্তি দিয়েছিলেন তিনি।
হিলারির ফাইলগুলো ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউজ। তারা পালটা দাবি করেছে, “ট্রাম্প প্রশাসন এপস্টাইন ফাইলগুলো প্রকাশের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের জন্য ডেমোক্র্যাটদের চেয়েও বেশি কাজ করেছে।”
এই বিতর্কের মধ্যেই কংগ্রেসের হাউজ ওভারসাইট কমিটিতে এপস্টেইন ফাইল তদন্তের অংশ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে ক্লিনটন দম্পতিকে তলব করা হয়েছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি উপস্থিত হবেন হিলারি ক্লিনটন এবং তার পরের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি হাজির হবেন তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।
এর আগে তারা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে কংগ্রেসে তাদের বিরুদ্ধে ‘অবমাননার’ প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরে তারা সাক্ষ্য দিতে রাজি হলে সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়।
১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর বিল ক্লিনটনই হবেন প্রথম সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি কোনো সংসদীয় কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেবেন।
সাক্ষাৎকারে হিলারি তাদের উন্মুক্ত শুনানির ডাকের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তারা কোনও রুদ্ধদ্বার শুনানি নয়, বরং প্রকাশ্য শুনানিতে অংশ নিতে চান।
তিনি বলেন, “আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আমরা বারবার এই ফাইলগুলো সম্পূর্ণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, সূর্যালোকই হলো সেরা জীবাণুনাশক।”
জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য ও সাবে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সম্পৃক্ততা নিয়েও হিলারি কথা বলেছেন। অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য দেওয়া উচিত কিনা জিজ্ঞেন করা হলে হিলারি স্পষ্ট করে জানান, “যাদেরই ডাকা হবে তাদের সবারই সাক্ষ্য দেওয়া উচিত।”
তবে অ্যান্ড্রু বরাবরই কোনো ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন। ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আনতে বাধ্য করার এখতিয়ার মার্কিন কংগ্রেস ওভারসাইট কমিটির নেই। তবে ক্লিনটন দম্পতিকে কমিটি সে কাজটিই করাচ্ছে।
হিলারি এ বিষয়ে অভিযোগ করে বলেছেন যে, তাকে এবং বিল ক্লিনটনকে ব্যবহার করে মূলত ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর থেকে জনদৃষ্টি সরানোরই চেষ্টা করা হচ্ছে।
হিলারি ক্লিনটন দাবি করেন, তার স্বামী বিল ক্লিনটনের সঙ্গে এপস্টেইনের একসময় পরিচয় থাকলেও দুই দশক আগেই তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন এবং তার নিজের সঙ্গে এপস্টাইনের কখনও দেখাই হয়নি।
তবে হিলারি বলেন, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এপস্টেইনের সহযোগী ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার দু’একবার সাক্ষাৎ হয়েছিল।
এপস্টেইন ফাইলের নতুন সংস্করণে ট্রাম্প এবং বিল ক্লিনটন— উভয়েরই নাম ও ছবি এসেছে। তবে যৌন অপরাধের সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনও অকাট্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

