আর্কটিক অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখল বা নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এই ঘোষণায় ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখল করা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান অগ্রাধিকার। চীন ও রাশিয়ার প্রভাব ঠেকাতে এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথ প্রেসিডেন্টের জন্য সব সময় খোলা আছে।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের সাফল্যের পরই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার পুরনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন করে তৎপর হয়েছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিশেষ করে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে নতুন নৌপথ তৈরি হওয়া এবং সেখানে থাকা বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতেই যুক্তরাষ্ট্রের এই মরিয়া ভাব।
তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক সরকার শুরু থেকেই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন যৌথভাবে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এর ভবিষ্যৎ কেবল সেখানকার মানুষই নির্ধারণ করবে।
এদিকে ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলরসহ ইউরোপের শীর্ষ নেতারা যৌথ বিবৃতিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সীমান্ত লঙ্ঘন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
যদিও ওয়াশিংটন দাবি করছে, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়। তবে ডেনমার্ক সরকার গত এক বছরে সেখানে সামরিক খাতে বড় অংকের বিনিয়োগের তথ্য তুলে ধরে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে দিয়েছে। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকলেও পুরো অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এই হুমকি আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের মিত্রদের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল তৈরির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সূত্র: ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর

