মার্কিন রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কৃত হলেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম। একাধিক বিতর্কে জর্জরিত নোমকে বরখাস্ত করার এই ঘটনাকে জনপ্রিয় টক-শো সঞ্চালক জিমি কিমেল তার শো ‘জিমি কিমেল লাইভ’-এ তীব্র কটাক্ষের বাণে বিদ্ধ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতের এই পর্বে কিমেল রসিকতা করে বলেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এই প্রথম ছাঁটাই অনেকটা জনপ্রিয় সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর সেই কুখ্যাত ‘রেড ওয়েডিং’-এর মতো, যেখানে একের পর এক চমকপ্রদ বিদায় ঘটে। ক্রিস্টি নোমকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর কিমেল হেসেই খুন হয়ে মন্তব্য করেন যে, সবচেয়ে মজার বিষয় হতো যদি এখন তাকে এল সালভাদরে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।
ক্রিস্টি নোমের এই বিদায়ের নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু গুরুতর কেলেঙ্কারি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২২০ মিলিয়ন ডলারের একটি সীমান্ত সুরক্ষা বিজ্ঞাপন প্রচার, যা আসলে তার নিজের প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এ ছাড়াও সরকারি খরচে বিলাসবহুল জেট ব্যবহার, ঘনিষ্ঠ সহযোগী কোরি লেওয়ান্ডোস্কির সঙ্গে সম্পর্ক এবং আইসিই এজেন্টের হাতে নিহত এক ব্যক্তিকে ভুলবশত ‘ঘরোয়া জঙ্গি’ বলে অভিহিত করার মতো বিষয়গুলো তার অবস্থান নড়বড়ে করে দিয়েছিল।
কিমেল তার মনোলোগে উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্প নাকি এই বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন, যদিও টিভির পোকা হিসেবে ট্রাম্পের পরিচিতি সর্বজনবিদিত। বরখাস্ত হওয়ার পর নোমকে ‘স্পেশাল এনভয় ফর দ্য শিল্ড অব দ্য আমেরিকা’ নামক একটি নতুন পদে পাঠানো হয়েছে, যাকে কিমেল সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ একটি কাজ বলে উপহাস করেছেন।
নোমের জায়গায় ওকলাহোমা সিনেটর মার্কওয়েন মুলিনকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, যিনি পেশায় একজন সাবেক এমএমএ ফাইটার এবং প্লাম্বার। কিমেল এই নিয়োগের সমালোচনা করে বলেন, হোয়াইট হাউস কর্মীরা জানিয়েছেন ট্রাম্প নাকি মুলিনকে টিভিতে দেখতে পছন্দ করেন। কিমেলের ভাষায়, মুলিনকে টিভিতে দেখা আর ‘হানি বু বু’-র মতো রিয়েলিটি শো দেখা একই পর্যায়ের বিনোদন। এর পাশাপাশি কিমেল ফক্স নিউজের একটি সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষার তথ্য তুলে ধরেন, যেখানে দেখা গেছে অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন ট্রাম্পের শাসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি অনিরাপদ হয়ে পড়ছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কিমেল সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ‘রহস্যজনকভাবে’ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া প্রায় ৪৭ হাজার নথির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি দাবি করেন, এই ফাইলগুলোতে বর্তমান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কিছু চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রয়েছে যা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। কিমেল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, যদি জো বাইডেনের বিরুদ্ধে এমন কোনো গুরুতর অভিযোগের নথি এফবিআই চেপে রাখত, তবে ফক্স নিউজের মতো দক্ষিণপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো এতক্ষণে তোলপাড় সৃষ্টি করত।
ক্রিস্টি নোমের এই প্রস্থান এবং নথিপত্র গায়েব হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিমেলের এই তীক্ষ্ণ ধারালো মন্তব্য এখন নেটদুনিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।
সূত্র: ভ্যারাইটি

