সম্প্রতি ‘দ্য ডেইলি শো’-এর একটি পর্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক জন স্টুয়ার্ট। আমেরিকার নবসূচিত ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে অন্ধকারে রাখা এবং যুদ্ধের লক্ষ্য সম্পর্কে অস্পষ্টতা বজায় রাখার কারণে ট্রাম্পকে ধুয়ে দিয়েছেন তিনি।
স্টুয়ার্ট রসিকতা করে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অপেক্ষা সে দেশের বোমার বুদ্ধিমত্তা অনেক বেশি উন্নত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্টুয়ার্ট উল্লেখ করেন যে, এই যুদ্ধটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল হলেও আমেরিকান জনগণকে এর যৌক্তিকতা বা চূড়ান্ত উদ্দেশ্য সম্পর্কে খুব সামান্যই জানানো হয়েছে।
মার-এ-লাগো থেকে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর যখন ট্রাম্পের কাছে সংবাদমাধ্যম যুদ্ধের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করেছিল, তখন তিনি সাংবাদিকদের পুরোপুরি এড়িয়ে যান। সিএনএন-এর একটি ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে স্টুয়ার্ট হাস্যরসের ছলে বলেন, ট্রাম্প এমন আচরণ করছেন যেন তিনি কোনো কিছুর তোয়াক্কাই করছেন না।
বিশেষ করে একটি ফুটেজে দেখা যায়, যখন এক সংবাদকর্মী ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন তিনি ইরানের নেতৃত্বে কাকে দেখতে চান, তখন প্রেসিডেন্ট সেই গম্ভীর প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো পাশে থাকা একটি মূর্তির প্রশংসা করে বলেন, অবিশ্বাস্য সব মূর্তি, তোমরা দেখবে। ট্রাম্পের এমন অপ্রাসঙ্গিক আচরণকে বিদ্রূপ করতে ছাড়েননি স্টুয়ার্ট।
অনুষ্ঠানে উঠে আসে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গও। যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে হেগসেথ আক্রমণাত্মক মেজাজে উত্তর দিলে স্টুয়ার্ট টিপ্পনী কেটে বলেন, প্রতিরক্ষা সচিবের এত ‘ডিফেন্সিভ’ বা রক্ষণাত্মক হওয়ার প্রয়োজন নেই। হেগসেথ যখন দাবি করেন যে ট্রাম্পের মতো ভালো যোগাযোগকারী আর কেউ নেই, তখন স্টুয়ার্ট মেডেল অব অনার অনুষ্ঠানের একটি ক্লিপ দেখান যেখানে প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে হলের পর্দা এবং সোনার কারুকাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
ট্রাম্পের মনোযোগের এই অভাব দেখে স্টুয়ার্ট মন্তব্য করেন, তিন বছরের শিশুর মতো তিনি চকচকে জিনিসে সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। সবশেষে বর্তমান প্রেক্ষাপট ও প্রেসিডেন্টের আচরণকে কটাক্ষ করে স্টুয়ার্ট বলেন, প্রযুক্তি এতটাই এগিয়েছে যে এখন মানুষের চেয়ে মারণাস্ত্রই বেশি বিচক্ষণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: ভ্যারাইটি

