গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে বাড়তে থাকা উত্তজনা ঘিরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে একধরণের খুশির মেজাজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সাধারণত পশ্চিমা বিশ্বের যেকোনো পদক্ষেপের সমালোচনা করলেও এবার রাশিয়ার সরকারি সংবাদপত্র ‘রোসিস্কায়া গেজেতা’ ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তাদের মতে, ২০২৬ সালের ৪ জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের ২৫০তম বার্ষিকীর আগে ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড দখল বা অধিগ্রহণ করতে পারেন, তবে তিনি আব্রাহাম লিঙ্কনের মতো ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবেন।
রাশিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার অংশ হলে দেশটি আয়তনের দিক থেকে কানাডাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্রে পরিণত হবে। যা আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক বড় সুযোগ।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেখানে ট্রাম্প দাবি করছেন যে গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ জরুরি, সেখানে রাশিয়া একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
আসলে মস্কোর এই খুশির পেছনে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক কৌশল। ট্রাম্পের এই জেদ এবং ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর এর প্রভাব নেটো জোটের ভেতর বড় ধরণের ফাটল তৈরি করছে।
রাশিয়া বিশ্বাস করে, পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে এই দূরত্ব যত বাড়বে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে মস্কোর হাত তত শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা চাপ কমাতে এবং ন্যাটোকে দুর্বল করতে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটি তাদের জন্য একটি মোক্ষম অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো এমনকি ট্রাম্পকে পরামর্শ দিচ্ছে যেন তিনি এই পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে না আসেন, কারণ এটি তার আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতার পথ প্রশস্ত করতে পারে। ইউরোপের দেশগুলোর অসহায়ত্ব এবং আমেরিকার সাথে তাদের তিক্ত সম্পর্ক দেখে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো এখন কেবল বিদ্রূপই করছে না, বরং এই অস্থিতিশীলতাকে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক জয়ের অংশ হিসেবে দেখছে।
সূত্র: বিবিসি

