মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের জেরে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ৫৩ জন সশস্ত্র সদস্যের মধ্যে ৫২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, সোমবার রাতে বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের নায়েক ছরওয়ার মোস্তফা বাদী হয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। আটক ৫৩ জনের মধ্যে একজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, মোট আটক ৫৭ জনের মধ্যে চারজন ছিলেন বাংলাদেশি জেলে। নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে গোলাগুলির মধ্যে তারা অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে মিশে পড়েন। যাচাই-বাছাই শেষে ওই চার জেলেকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ মঙ্গলবার বিকেলে ৫২ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে রবিবার ৫৩ জন এবং সোমবার সকালে আরও চারজনকে হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি ও পুলিশ আটক করে।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে আহত বাংলাদেশি যুবক আবু হানিফের বাম পা কেটে ফেলতে হয়েছে। আহতের বাবা ফজল করিম জানান, সোমবার সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে তার ছেলের বাম পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা আফনানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

