টেকনাফে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রী হুজাইফা লাইফ সাপোর্টে

0
টেকনাফে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রী হুজাইফা লাইফ সাপোর্টে

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় নাস্তা আনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী হুজাইফা আফনান। গুলিটি মুখ দিয়ে ঢুকে তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করায় অস্ত্রোপচার করেও তা বের করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আহত শিশুটির বয়স ৯ বছর। সে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যাং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা। রবিবার সকালে বাবার কাছ থেকে নাস্তা আনতে বের হলে সীমান্তবর্তী হোয়াইক্যাং তেঁতুলব্রিজ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয় সে। পরিবারের দাবি, সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতেই শিশুটি আহত হয়েছে।

আহত শিশুটির চাচা শওকত আলী বলেন, গুলিটি মুখ দিয়ে ঢুকে সরাসরি মস্তিষ্কে চলে গেছে। দ্রুত তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতে অস্ত্রোপচারের চেষ্টা করা হলেও ঝুঁকি থাকায় গুলিটি বের করা যায়নি। সীমান্ত এলাকা থেকে ঘটনাস্থল প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। প্রায়ই সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, গুলিটি মস্তিষ্কের পেছনের অংশের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি রয়েছে। অস্ত্রোপচার করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জীবনঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে আপাতত গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। মাথার চাপ কমাতে খুলির একটি অংশ খোলা রাখা হয়েছে। শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, রবিবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সিটি স্ক্যানে দেখা যায়, গুলিটি মস্তিষ্কের গভীরে অবস্থান করছে। জটিলতা বিবেচনায় চিকিৎসকরা সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় শিশু আহত হওয়ার এ ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এমন অবস্থায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here