কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালী পাড়া সাগরে জেলেদের জালে বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ১০৬ মণ মাছ ধরা পড়েছে। মাছগুলো অন্তত ৯ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে জেলেদের পরিবার ও উপকূলজুড়ে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
এক জালে এত পরিমাণ মাছ ওঠার খবরে সমুদ্রসৈকতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা ভিড় করেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন সমুদ্রসৈকত এলাকায় গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা হাফেজ আহমদের মালিকানাধীন একটি টানা জালে এসব মাছ ধরা পড়ে। এসব মাছের মধ্যে রয়েছে ফাইস্যা ও ছোট-বড় ছুরি মাছ। সাগর থেকে তোলা মাছগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পাইকারি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এসব মাছের একাংশ স্থানীয় বাজারে পাঠানো হলেও বড় অংশ যাচ্ছে শুঁটকিমহালে।
জেলে নৌকার মাঝি মো. ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পর সাগরে ভালো মাছ পেয়েছেন তারা। তিনি বলেন, আজ আমাদের জালে প্রায় ৯ লাখ টাকার মাছ উঠেছে। আমরা সবাই খুব খুশি। অনেক দিন ধরে মাছ না পাওয়ায় কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। অনেকেই ধার করে সংসার চালিয়েছেন। আজ আল্লাহ চাইলে সেই দেনা শোধ করা যাবে। কয়েক দিন এভাবে মাছ পেলে অভাব দূর হবে।
জালের মালিক মৌলভী হাফেজ আহমদ জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সাগরে হঠাৎ করে মাছের আনাগোনা বেড়েছে। তার এক জালেই ১০৬ মণের বেশি মাছ ধরা পড়েছে, যা বিক্রি হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে বেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে, যা জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, আজ সমুদ্রসৈকতে ধরা পড়া মাছের বড় অংশই ছুরি মাছ। এই মাছ দিয়ে টেকনাফ এলাকায় ব্যাপক হারে শুঁটকি উৎপাদন করা হয়। শীত মৌসুমে ছুরি মাছের প্রজনন বাড়ে।

