ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল অস্ট্রেলিয়া। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে ছয়বার শিরোপা জয়ের কীর্তি তাদের, যা অন্য কোনো দল দুইবারের বেশি করতে পারেনি। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা। কিন্তু সাদা বলের ছোট সংস্করণে চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২১ সালে প্রথম ও একমাত্র শিরোপা জেতে অস্ট্রেলিয়া। এরপর টানা দুই আসরে নকআউট পর্বেই উঠতে পারেনি দলটি। চলতি আসরে তো গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তাদের। সুপার এইটে জায়গা করে নেওয়া জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় তারা।

অবশ্য এবারের দলে বড় ঘাটতিও ছিল। চোটের কারণে প্যাট কামিন্স ও জশ হেইজেলউডকে পায়নি অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের আগেই অবসর নেন মিচেল স্টার্ক। টুর্নামেন্টের শুরুতে টিম ডেভিডও ছিলেন না চোটে। অধিনায়ক মিচেল মার্শও প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি।
তবু অশ্বিনের মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী একটি দলের গ্রুপ পর্ব পার হতে না পারা অবাক করার মতো। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে অস্ট্রেলিয়া আদৌ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে নিচ্ছে কি না। তার মতে, মূল পেসারদের অনুপস্থিতি বড় কারণ হলেও, শিরোপার জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বিত প্রচেষ্টা তারা করছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
অশ্বিন আরও মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেট সংস্কৃতি, গভীরতা ও মানসম্পন্ন খেলোয়াড়সমৃদ্ধ দল সংগঠিত পরিকল্পনা নিয়ে নামলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অনেক বেশি সফল হতে পারে। এবারের আসরে তাদের সম্ভাবনা খুব উজ্জ্বল ছিল না বলে ধারণা থাকলেও, এত দ্রুত বিদায় নেবে—তা প্রত্যাশিত ছিল না।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে শুক্রবার ওমানের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া, তবে সেটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা। সুপার এইটে ভারত-অস্ট্রেলিয়া লড়াই দেখার যে প্রত্যাশা ছিল, তা আর পূরণ হচ্ছে না।

