নেট রান রেটের মারপ্যাঁচ থেকে আগের ম্যাচেই রেহাই দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের কাজটা তাই এখন শুধু জয় তুলে নেয়ার। সে পথে জিম্বাবুয়েকে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো ভারত।
গ্রুপ পর্বের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো পরাশক্তিকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে সুপার এইটের লড়াইয়ে তারা কোনো চমক দেখাতে পারলো না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ছিটকে গেলো আসর থেকে। শেষ ম্যাচ জিতলেও কোনো সমীকরণেই আর তাদের আশা বেঁচে নেই। অন্যদিকে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হারের পরও আপাতত নেট রান রেটের ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে না ভারতকে। কারণ গ্রুপ ওয়ানে দিনের প্রথম ম্যাচে প্রোটিয়াদের কাছে হেরেছে উইন্ডিজ। তাই লড়াইটা এখন শুধুই পয়েন্টের। সুপার এইটের শেষ লড়াইয়ে ভারত-উইন্ডিজের মধ্যকার জয়ী দলই নিশ্চিত করবে শেষ চারের টিকিট। দুই ম্যাচ শেষে দুদলেরই পয়েন্ট সমান ২ করে। গ্রুপ ওয়ান থেকে ইতোমধ্যে টিকিট নিশ্চিত হলে গেলো প্রোটিয়াদের।
এর আগে চেন্নাইয়ে বৃহস্পতিবার সুপার এইটে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও জিম্বাবুয়ে। বাঁচা-মরার ম্যাচে ২৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রানে থামে রাজারা। দলের হয়ে ৯৭ রানের দৃষ্টিনন্দন এক অপরাজিত ইনিংস খেলেন ওপেনার ব্রায়ান বেনেট।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এদিন তাদের শুরুটা ছিল মন্থর। প্রয়োজনীয় রানের তুলনায় স্কোরকার্ডে কখনো ছিল না পর্যাপ্ত রান। উইকেট বিলিয়ে না দিলেও একপেশে লড়াইয়ে সহজ জয় তুলে নেয় ভারত। তবে জিম্বাবুয়ের জন্য প্রাপ্তি, ভারতের মতো শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিপরীতেও দাঁড়িয়ে ব্রায়ান বেনেটের দৃষ্টিনন্দন ইনিংসটি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে দাঁড়িয়ে থেকে ৫৯ বলে ৮ চার ও ৬ ছক্কায় ৯৭ রান করেন তিনি। শুধু আক্ষেপ থেকে যাবে সেঞ্চুরি করতে না পারার।
ভারতের হয়ে ২৪ রান খরচায় এদিন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন আর্শদীপ সিং। এছাড়া ১টি করে উইকেট নিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী, অক্ষর প্যাটেল ও শিবাম দুবে।
এদিন স্বাগতিকদের সহজ জয় এনে দেওয়ার পথে বড় ভূমিকাটা রেখেছে ব্যাটাররা। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে একের পর এক বিধ্বংসী ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৬ রানের বড় সংগ্রহ পায় ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। দলের হয়ে ৩০ বলে ৪ ছক্কা ও ৪ চারের মারের সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন অভিষেক শর্মা। ২৩ বলে ৪ ছক্কা ও ২ চারের মারে ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন হার্দিক পান্ডিয়া। ১৬ বলে ৪ ছক্কা ও ৩ চারের মারে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিলক বার্মা। এছাড়া সূর্যকুমার যাদব ১৩ বলে ৩৩, ইশান কিশান ২৪ বলে ৩৮ আর সাঞ্জু স্যামসন ১৫ বলে ২৪ রান করেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে ১টি করে উইকেট নেন রিচার্ড এনগ্রাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি, তিনোতেন্দা মাপোসা ও সিকান্দার রাজা।

