চীন জাপানে কিছু পরিমাণ বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানের সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজ। তবে এই অনুমতি খুব সীমিত। আগের মতো পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে রপ্তানি এখনো শুরু হয়নি।
গত মাসে চীন জাপানের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। সেই চাপ কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিললেও, চীন এখনো রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। তবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শিথিলতার ঘোষণা দেয়নি। রয়টার্সও এ খবর স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
জাপানের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনার পরই চীন এই কড়াকড়ি শুরু করে। মূল কারণ ছিল তাইওয়ান ইস্যু। গত নভেম্বর মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, তাইওয়ানে হামলা হলে তা জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে। প্রয়োজনে জাপান সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন ইঙ্গিতও তিনি দেন। চীন এই বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলে আখ্যা দেয়। এরপর জানুয়ারি মাসের শুরুতে চীন ঘোষণা দেয়, জাপানে এমন কোনো পণ্য রপ্তানি করা হবে না, যা জাপানের সামরিক শক্তি বাড়াতে পারে। এর মধ্যে বিরল খনিজ ও বিরল খনিজ দিয়ে তৈরি চুম্বকও পড়ে।
বিরল খনিজ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
বিরল খনিজ ব্যবহার হয় মোবাইল ফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, সামরিক সরঞ্জাম ও আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরিতে। জাপান এই খনিজের জন্য প্রায় ৭০ শতাংশ চীনের ওপর নির্ভরশীল। আর বিশ্বজুড়ে বিরল খনিজ উত্তোলনের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রায় ৯০ শতাংশই চীনের নিয়ন্ত্রণে। চীনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাপানে খনিজ পাঠাতে হলে রপ্তানিকারকদের অনেক তথ্য দিতে হচ্ছে। যেমন—কে কিনবে, কী কাজে ব্যবহার হবে, কোথা দিয়ে পাঠানো হবে এবং অন্য দেশে আবার পাঠানো হবে কি না। কিছু চীনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জাপানের কোম্পানির সঙ্গে নতুন চুক্তি করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে জাপানের শিল্পকারখানাগুলো বড় সংকটে পড়েছে।
জাপানের কোম্পানিগুলোর অবস্থা
জাপানের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টিডিকে জানিয়েছে, বিরল খনিজ সংগ্রহ করা এখন খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা এখন এমন প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে কম খনিজ ব্যবহার করেই বা একেবারেই খনিজ ছাড়া চুম্বক তৈরি করা যায়। চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে জাপান নতুন পথ খুঁজছে। সম্প্রতি জাপানের একটি গভীর সমুদ্র অনুসন্ধান জাহাজ প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীর সমুদ্র থেকে বিরল খনিজযুক্ত মাটি তুলতে সক্ষম হয়েছে। জাপানের দাবি, সেখানে এত খনিজ রয়েছে, যা দিয়ে বিশ্বের চাহিদা বহু বছর মেটানো সম্ভব।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রও সক্রিয় হয়েছে। চীনের প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপান একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খনিজ সরবরাহ নিরাপদ রাখতে তারা যৌথ উদ্যোগ নিচ্ছে।

