‘জাতীয় দলের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের টানাপোড়েন বাড়ছে’

0
‘জাতীয় দলের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের টানাপোড়েন বাড়ছে’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মধ্যে প্রতিনিয়ত টানাপোড়েনের কারণে ক্রিকেটঅঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে বলে স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সম্প্রীতি ‘বিজনেস অফ স্পোর্ট’ পডকাস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই এই কথা জানান।

পিঠের চোটের কারণে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ বেশ কয়েক মাস ধরে মাঠের বাইরে রয়েছেন প্যাট কামিন্স। এমনকি শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের প্রথম দিকের ম্যাচে খেলতে পারছেন না তিনি। তার পরিবর্তে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দায়িত্ব পালন করবেন ইশান কিশান।

কামিন্সের দীর্ঘদিনের সতীর্থদের মধ্যে স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং মার্কাস স্টয়নিস ইতোমধ্যেই ওয়ানডে থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, অন্যদিকে মিচেল স্টার্ক তার ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করার প্রচেষ্টায় টি-টোয়েন্টি ছেড়ে দিয়েছেন। তবে কামিন্স এখনও তিনটি ফরম্যাটেই খেলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এমনকি যদি এর জন্য সতর্কতার সঙ্গে বিশ্রামের সময় ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়।

এ বিষয়ে অজি অধিনায়ক বলেন, এখনও তিনটি ফরম্যাটেই খেলতে খুব আগ্রহী এবং এই মুহূর্তে আমি মনে করি আমরা এটা করতে পারব। আমি টেস্ট ক্রিকেট ভালোবাসি। আশা করি আমি এমন একটি ছন্দে থাকব যেখানে আমি তিন, চার, পাঁচ বছর ধরে এটা চালিয়ে যেতে পারব এবং টেস্ট ক্রিকেট ছাড়তে হবে না।

তবে অজি অধিনায়ক সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আইপিএল এবং দ্য হান্ড্রেডের মতো লিগগুলোর আর্থিক আকর্ষণ ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের জন্য জাতীয় দায়িত্বকে ছাপিয়ে যেতে পারে।

কামিন্স উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়রা বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলার জন্য দ্য হান্ড্রেড থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিলেন এবং এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ছেড়ে দিয়েছে তারা। কিন্তু এই আনুগত্য চিরস্থায়ী হবে কিনা, সে বিষয়ে তিনি সন্দিহান।

জাতীয় দলের জন্য শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে তিনি খেলোয়াড়দের চুক্তি এবং ব্যবস্থাপনার বিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। কামিন্স একটি কর্মকৌশলের রূপরেখা দিয়েছেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি দুই থেকে তিন মাসের দীর্ঘ বিশ্রামের সময় অন্তর্ভুক্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

কামিন্স বলেন, আমার মনে হয়, পরিস্থিতি এখন একটি টানাপোড়েনের পর্যায়ে রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই এমনটা চলছে, তবে আমার মনে হয়, এই চাপ কেবল বেড়েই চলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো ভালোভাবে পুঁজি পাচ্ছে এবং আরও উন্নত হচ্ছে, তাই এই ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের মধ্যে কেউ কেউ এখন শাখা বিস্তার করে বিভিন্ন লিগের মালিকানা নিচ্ছেন। এমনকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তি করার পদ্ধতি এবং তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে কি না, সেই বিষয়ে আলোচনার ধরনও গত পাঁচ বছরে অনেক বদলে গেছে, কারণ ক্লাবগুলো তাদের হারাতে চায় না, তাই আগের চেয়ে এখন হয়তো তাদের কিছুটা বেশি স্বাধীনতা দিতে হবে।

কামিন্স জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি সব ফরম্যাটেই খেলা চালিয়ে যেতে আগ্রহী এবং তা বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষভাবে তৈরি কর্মপরিকল্পনা মেনে চলছেন।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলো টেস্ট ক্রিকেটের জন্য শক্তিশালী দর্শক ও মনোযোগ আকর্ষণ করে চললেও, বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি একই রকম নয়। বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটে অসম চাপের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডে আমরা যা দেখি তা হলো, টেস্ট ক্রিকেটের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে, টেস্ট গ্রীষ্মে প্রচুর দর্শক সমাগম হয় এবং অনেক মনোযোগ আকর্ষণ করে। অন্য সব আন্তর্জাতিক দলের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এমন নয়। প্রতিটি দেশের চ্যালেঞ্জগুলো কিছুটা ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক হিসেবে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি তা হলো, টেস্ট বা ওয়ানডে দল বাছাই করার সময় আমরা কীভাবে নিশ্চিত করবো আমাদের সেরা অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়রাই যেন দলে থাকে, কারণ অন্য জায়গায় তাদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

কামিন্স এই ধারণা থেকে সতর্ক করেছেন, জাতীয় দলের প্রতি আনুগত্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বৈশ্বিক লিগের আকর্ষণকে ছাপিয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে ইনজুরি কাটিয়ে নিজেট শতভাগ ফিট করে আইপিএলে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামতে এবং ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে পারবে বলে জানিয়েছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here