জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাসহ অন্তত ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার এ ঘোষণা দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক ও জাতিসংঘের সংস্থা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবে, কারণ এসব সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পের জারি করা এক স্মারকে জাতিসংঘের বাইরের ৩৫টি এবং জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত ৩১টি সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন ইউএনএফসিসিসি। এই কাঠামোকেই অনেকে বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তির ভিত্তি হিসেবে দেখেন এবং এর আওতাতেই ২০১৫ সালে প্যারিসে জলবায়ু সমঝোতা হয়।
ট্রাম্প বলেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র এসব সংস্থায় অংশগ্রহণ বন্ধ করবে এবং সব ধরনের তহবিল সহায়তাও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এর আগে গত বছর তিন দশকের মধ্যে প্রথমবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ন্যাচারাল রিসোর্স ডিফেন্স কাউন্সিলের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনিশ বাপনা বলেন, ইউএনএফসিসিসি থেকে সরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রই হবে প্রথম দেশ। তাঁর ভাষায়, বিশ্বের প্রায় সব দেশই এই কাঠামোর সদস্য, কারণ তারা মনে করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং আলোচনার টেবিলে উপস্থিত থাকা মানে নীতিনির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ সুযোগ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা।
এই সিদ্ধান্তের আওতায় জাতিসংঘের ইউএন উইমেন থেকেও যুক্তরাষ্ট্র সরে যাবে। সংস্থাটি লিঙ্গ বৈষম্য ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে। পাশাপাশি জাতিসংঘের পপুলেশন ফান্ড ইউএনএফপিএ থেকেও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহার নিচ্ছে, যা পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে দেড় শতাধিক দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে। গত বছরই এ সংস্থাটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল বরাদ্দ বন্ধ করা হয়েছিল।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী যেসব সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বা অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের অধিকাংশ সংস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তামূলক তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সোর্স: রয়টার্স, বিবিসি

