ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনি অবস বিভাগের গাইনি অনকোলজি ইউনিটের আয়োজনে জরায়ুমুখ ক্যানসার সচেতনতা মাস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য র্যালি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জরায়ুমুখের ক্যানসার সচেতনতা মাস-২০২৬-এর থিম হচ্ছে- এম্পাওয়ার দ্য স্টোরিটেলারস।
বাংলাদেশে নারীমৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ জরায়ুরমুখ ক্যানসার। গ্লোবোকোন ২০২২-এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছরে জরায়ুমুখ ক্যানসারে ৯ হাজার ৬৪০ জন নারী আক্রান্ত হয় এবং তার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন ৫ হাজার ২১৪ জন। সময়মতো টিকা নিলে জরায়ুমুখ ক্যানসার সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা যায়। টিকার পাশাপাশি স্ক্রিনিং এবং সময়মতো চিকিৎসা করার বিষয়েও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গুরুত্ব দিয়েছে।
জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে আয়োজিত র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন ওজিএসবির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. ফিরোজা বেগম, যুগ্ম সচিব (স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ) শিব্বির আহমেদ ওসমানী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, উপাধ্যক্ষ এবং গাইনি বিভাগের প্রধান, মেম্বার সেক্রেটারি ও জিএসবি প্রফেসর ডা. মুসাররাত সুলতানা, অধ্যাপক ডাক্তার আশরাফুন্নেসা, গাইনি অনকোলজি ইউনিটের প্রধান প্রফেসর ডা. এস এম সাহিদা, ঢামেক উপপরিচালক ডা. আশরাফুল আলমসহ গাইনি বিভাগের অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ, ইন্টার্ন চিকিৎসকবৃন্দ ও সেবিকারা অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি এবং স্ক্রিনিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে ৯০ ভাগ টিকা, ৭০ ভাগ স্ক্রিনিং এবং ৯০ ভাগ রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনতে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। ক্যানসার আক্রান্ত নারীদের চিকিৎসা পাওয়ার পর তাদের জীবনের গল্প বলার মাধ্যমে অন্যদের ক্যানসারের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানোও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আয়োজনে ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ঢামেকের উপপরিচালক ডা. মো. আশরাফুল আলম হাসপাতালভিত্তিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কমিউনিটি লেভেলে জনগণের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডাক্তার মির্জা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ঢাকা মেডিকেলে জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এবং সঠিক চিকিৎসার সব ধরনের আধুনিক সুবিধা রয়েছে বলে সকলকে অবহিত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. রিফাত আরা। সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ডা. আশফী লায়লা ইলোরা।

