ডিজিটাল যোগাযোগ আর স্মার্টফোনের ব্যস্ততার যুগে প্রায় হারিয়ে গেছে হাতে লেখা চিঠির আবেগ। সেই হারানো দিনের নস্টালজিয়া ও অপেক্ষার গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিলেটি ভাষার নতুন চলচ্চিত্র ‘মামনের চিঠি’। নির্মাতাদের দাবি, এটি সিলেটি ভাষার প্রথম সিনেমা, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে চিঠির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা প্রেম ও অনুভূতির গল্প।
চলচ্চিত্রটির কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে শংকর ও মামুন নামের দুই তরুণ-তরুণীর প্রেম। ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে মামুন আধুনিক প্রযুক্তির বদলে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তার এই আগ্রহের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শংকরও প্রযুক্তি এড়িয়ে চিঠির মাধ্যমেই যোগাযোগ শুরু করে। তবে তাদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও বিপ্লব ঘোষ নামের একটি চরিত্র। একটি ভুল চিঠি কীভাবে তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, সেই গল্পই উঠে এসেছে সিনেমাটিতে।
সিনেমাটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিদ্ধার্থ সিনহা ও গৌতমী মিশ্রা। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন আরিয়ান সিনহা, রাজেশ্বর সিনহা, সুহেল আহমেদ, সাজু আহমেদ এবং লক্ষ্মী মালাকারসহ আরও অনেকে।
চলচ্চিত্রটির প্রধান চিত্রগ্রাহক পরাগ জ্যোতি দাস। চিত্রগ্রহণে সহযোগিতা করেছেন আপন আহমেদ রানা ও জয়দীপ। ড্রোন পরিচালনায় ছিলেন কুশল দাস। সম্পাদনা করেছেন জিত চৌধুরী এবং ভিএফএক্সের কাজ করেছেন দিপাঙ্কর সাহারিয়া।
সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করেছেন গুয়াহাটির সুরকার রূপম নাথ। এতে তশিবা বেগম ও শোভন দালাপতির কণ্ঠে ‘প্রেমের হাওয়া’ এবং পুরভ সিনহার গাওয়া ‘তুই ছাড়া’ গান দুটি ইতোমধ্যে দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
আসাম ও সিলেটের বিভিন্ন লোকেশনে সিনেমাটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ত্রিপুরার কৈলাসহরে প্রিমিয়ারের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আসামের পাথারকান্দি ও হাইলাকান্দির কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে এটি প্রদর্শিত হয়।
চলচ্চিত্রটির পরিচালক সিদ্ধার্থ সিনহা বলেন, ‘এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, হারিয়ে যেতে বসা চিঠি লেখার সংস্কৃতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।’

