ঘুমের আগে ফোন ব্যবহারে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি

0
ঘুমের আগে ফোন ব্যবহারে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি

ঘুমানোর আগে স্মার্টফোন ব্যবহার এখন অনেকেরই নিত্যদিনের অভ্যাস। তবে গবেষণা বলছে, এই অভ্যাস নীরবে বাড়িয়ে দিচ্ছে ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ এবং নানা শারীরিক ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ঘুম-সংকেতকে ব্যাহত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, যা ঘুম আসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং মোট ঘুমের সময় ও মান দুটোই কমে যায়। ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহার করলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ মিনিট ঘুম কম হয়, যা দীর্ঘদিনে বড় ঘাটতিতে রূপ নিতে পারে।

নরওয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিছানায় শুয়ে অতিরিক্ত এক ঘণ্টা স্ক্রিন ব্যবহার করলে অনিদ্রার ঝুঁকি প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে এবং ঘুমের সময় গড়ে ২৪ মিনিট কমে যায়। মাঝরাতে ফোন ব্যবহার করলে ঘুমের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং গভীর ঘুম ব্যাহত হয়।

খারাপ ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা বাড়তে পারে, যা আবার রাত জেগে বেশি ফোন ব্যবহারের দিকে ঠেলে দেয়, ফলে তৈরি হয় এক ক্ষতিকর চক্র। পাশাপাশি রাতে ফোন ব্যবহারে হার্ট রেট বেশি থাকে, শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, ঘুমের ব্যাঘাত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ও গ্লুকোজ বিপাকে প্রভাব ফেলে। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ বিএমআই এবং মেটাবলিক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও কর্মক্ষমতাও কমে যায়।

স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাতে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ চালু রাখা, নাইট মোড বা ব্লু লাইট ফিল্টার ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর ফোন হাতের নাগালের বাইরে রাখার মতো অভ্যাস সুস্থ জীবনযাপনে সহায়ক হতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here