এসিডিটি মানেই কি বাইরের ভাজাপোড়া বা অনিয়ম? বাস্তবতা বলছে, তা নয়। অনেকের ক্ষেত্রেই নিয়ম মেনে, ঘরোয়া খাবার খাওয়ার পরও বুক ও গলায় জ্বালা-পোড়া শুরু হয়ে যায়। এমনকি ওষুধ খেয়েও কখনো কখনো আরাম মেলে না। ফলে সারাদিন কাটে অস্বস্তিতে।
পুষ্টিবিদদের মতে, সমস্যার মূল জায়গাটা লুকিয়ে আছে খাবারের ধরন ও অভ্যাসে। কী খাচ্ছেন, তার পাশাপাশি কোন খাবার নিয়মিত রাখছেন বা বাদ দিচ্ছেন, সেটাই এসিড রিফ্লাক্স বাড়া-কমার বড় কারণ।
পুষ্টিবিদ লিউক কুটিনহো জানাচ্ছেন, এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা যে শুধু বাইরের খাবার খেলেই বাড়ে, তা নয়। অনেক সময় বাড়িতে রান্না করা সাধারণ খাবারও রিফ্লাক্স বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলছেন,‘এসিডিটি হতে পারে এমন খাবার খাওয়া যেমন যাবে না, তেমনই কিছু খাবার যদি নিয়ম করে খাওয়া যায়, তবে সেই অভ্যাস এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমাতে পারে।’ অর্থাৎ, খাবারই এখানে সমস্যার কারণ, আবার খাবারই হতে পারে সমাধান।
প্রদাহ কমালেই কমবে জ্বালা
এসিড রিফ্লাক্সের বড় একটি কারণ হলো শরীরের ভেতরের প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন। তাই এমন খাবার দরকার, যা হজমে সাহায্য করবে এবং প্রদাহ কমাবে।
আদা
এই জায়গায় সবচেয়ে কার্যকর। এটি প্রদাহ কমায়, হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। রান্নায় আদা ব্যবহার করার পাশাপাশি আদা চা বা গরম পানিতে আদা মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে।
কলা
পাকস্থলির অতিরিক্ত এসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে দরকার ক্ষারজাতীয় খাবার। এই তালিকায় সবচেয়ে সহজ ও পরিচিত ফল হলো কলা। কলা পাকস্থলির এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং খাদ্যনালির ভেতরে একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে।
ওটস
এসিড শোষণে বড় ভূমিকা রাখে ফাইবার। ওটস-এ থাকা প্রচুর ফাইবার পাকস্থলির অতিরিক্ত এসিড শুষে নেয়, ফলে রিফ্লাক্সের আশঙ্কা কমে।
রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ
সবুজ শাক-সবজি স্বাভাবিকভাবেই এসিড রিফ্লাক্স কমাতে সাহায্য করে, কারণ এতে ফ্যাট ও শর্করার পরিমাণ কম। তবে এখানেই একটি ফাঁদ রয়েছে- অতিরিক্ত তেল ও মসলা। বেশি ঝাল বা তেল দিলে উপকারী শাক-সবজিও উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে।
পানিসমৃদ্ধ ফল রাখুন তালিকায়
যেসব ফলে পানির পরিমাণ বেশি এবং এসিড কম, সেগুলো রিফ্লাক্সের জন্য নিরাপদ। তরমুজ, ফুটি, পেঁপে, আপেল, নাশপাতি। এই ফলগুলো এসিডের মাত্রা বাড়তে দেয় না। এ ছাড়া নারিকেল ও খেজুর ভালো বিকল্প।
সূত্র: আনন্দবাজার

