গ্র্যামির মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য, তারকাদের একহাত নিলেন রিকি জারভেইস

0
গ্র্যামির মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য, তারকাদের একহাত নিলেন রিকি জারভেইস

জমকালো আয়োজনে শেষ হলো ২০২৬ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস। তবে এবারের আসরটি শুধু সংগীতের জন্য নয়, বরং তারকাদের রাজনৈতিক স্লোগান আর অভিবাসন নীতিবিরোধী (আইসিই) কড়া বক্তব্যের জন্য টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। আর ঠিক এই সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের একহাত নিলেন ব্রিটিশ কমেডিয়ান ও গোল্ডেন গ্লোবসের সাবেক সঞ্চালক রিকি জারভেইস।

গ্র্যামির মঞ্চে যখন বিলি আইলিশ আর ব্যাড বানিরা রাজনৈতিক ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন রিকি জারভেইস তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ২০২০ সালের সেই বিখ্যাত গোল্ডেন গ্লোবসের মনোলোগ শেয়ার করেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, আপনারা সাধারণ মানুষকে জ্ঞান দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। বাস্তব পৃথিবী সম্পর্কে আপনাদের কোনো ধারণাই নেই। আপনাদের অনেকেরই স্কুলজীবন গ্রেটা থুনবার্গের চেয়েও কম।

রবিবার গ্র্যামি শেষ হওয়ার পর এই ভিডিওটি শেয়ার করে তিনি একটি কান্নার ইমোজি দিয়ে লেখেন, তারা এখনো কথা শুনছে না। 

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের এমি অ্যাওয়ার্ডসের সময়ও তিনি একই ধরনের পোস্ট করে পরে তা মুছে দিয়েছিলেন।

এবারের গ্র্যামিতে জাস্টিন বিবার, হেইলি বিবার, জ্যাক অ্যান্টোনফসহ বহু তারকাকে পোশাকে ‘আইসিই আউট’ পিন পরে থাকতে দেখা গেছে। মূলত মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই আয়োজন।

‘ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার’ গানের জন্য বর্ষসেরা গানের পুরস্কার নিতে উঠে বিলি সরাসরি বলেন, চুরি করা জমিতে কেউ অবৈধ নয়। আমাদের কথা বলা বন্ধ করলে চলবে না, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ জয়ী এই লাতিন তারকা তার বক্তব্যে বলেন, আমরা অসভ্য নই, আমরা কোনো ভিনগ্রহী প্রাণীও নই। আমরা মানুষ এবং আমরা আমেরিকান।

‘বেস্ট কান্ট্রি ডুয়ো’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে শাবোজি বলেন, এই দেশটা অভিবাসীদের হাতেই গড়া। যারা এখানে উন্নত জীবনের আশায় এসেছিলেন, তাদের সংস্কৃতি আর সুরের কারণেই আমেরিকা আজ রঙিন।

‘বেস্ট নিউ আর্টিস্টের’ পুরস্কার নিয়ে অলিভিয়া ডিন নিজেকে একজন অভিবাসীর নাতনি হিসেবে পরিচয় দিয়ে সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পুরস্কারের মঞ্চকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে হলিউড বরাবরই দুই ভাগে বিভক্ত। জারভেইসের মতো অনেকেই মনে করেন, বিনোদন জগতের মানুষদের উচিত শুধু বিনোদনেই সীমাবদ্ধ থাকা। অন্যদিকে, শিল্পীদের দাবি— প্রভাবশালী মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে মানবাধিকারের কথা বলা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। ২০২৬ সালের গ্র্যামি যেন সেই পুরোনো বিতর্ককেই নতুন করে উসকে দিল।

সূত্র: ভ্যারাইটি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here