গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক উত্তেজনা বাড়ছে

0
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক উত্তেজনা বাড়ছে

আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে গ্রিনল্যান্ড। গ্রিনল্যান্ড দখল বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে আবারও সরব হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই লক্ষ্য পূরণে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এএফপিকে বলেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি লক্ষ্য। তার ভাষায়, রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে আর্কটিক অঞ্চলে ঠেকাতে এটি প্রয়োজন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ও তার দল বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সুযোগও সব সময় খোলা আছে।

এই বক্তব্যের ফলে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশ ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি আগে থেকেই রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বসবাস করে।

গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক—উভয় পক্ষই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাইলেও এখনো সেই বৈঠক হয়নি। গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্ট জানিয়েছেন, ২০২৫ সালজুড়ে একাধিকবার বৈঠকের অনুরোধ জানানো হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে কিছু ভুল বোঝাবুঝি দূর করা সম্ভব।

এদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। দ্বীপটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা কেবল গ্রিনল্যান্ডের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।

ডেনমার্কের পক্ষে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড ও স্পেন এক যৌথ বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইউরোপীয় নেতারা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here